১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় শিশুমৃত্যু বেড়েই চলছে, পুরো শহর দখলের পথে ইসরাইল

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গাজায় চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে শিশুদের জীবন। ইসরাইলের অবরোধের কারণে খাবারের সংকট চরমে পৌঁছেছে, আর তার প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ওপর।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জন ফিলিস্তিনির; এদের মধ্যে ৩৫ জনই শিশু।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, “গাজা পুরোপুরি দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনা আরও মৃত্যু ও দুর্ভোগ ডেকে আনবে। এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

গাজা শহরে নতুন অভিযান

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ আগস্ট) ইসরাইলি সেনারা গাজা সিটিতে অভিযান চালায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় নারী-শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।

এদিন গাজার দারাজ ও তুফাহ এলাকার কিছু অংশের বাসিন্দাদের নতুন করে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের দক্ষিণে আল-মাওয়াসির দিকে চলে যেতে হবে।”

পরে ওই দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামাসের কয়েকজন সদস্যকে হত্যা ও একাধিক সুড়ঙ্গের মুখ ধ্বংসের দাবি করে ইসরাইল। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গাজা দখলের পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছে জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস জানিয়েছেন, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে পাঠানো হবে না।

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, “আমাদের লক্ষ্য গাজা দখল করা নয়; বরং হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে সেখানে শান্তিপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করা।”

অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। গাজাবাসী যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ বা গণহত্যা চায় না।”

ইসরাইলের ভেতরে বিক্ষোভ

শুক্রবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ করেন হামাসের সাবেক জিম্মি ও এখনো বন্দি থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে জিম্মিদের মুক্ত করা এবং যুদ্ধ বন্ধ করা হোক; নইলে গাজা দখলের পরিকল্পনা আরও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ডেকে আনবে।

Read Previous

চাঁদপুরে সাগরের ইলিশ তুলনামূলক সস্তা, পদ্মা-মেঘনার দাম অপরিবর্তিত

Read Next

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular