
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক ভূখণ্ডকে জাতীয় সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নয়, পর্যটন শিল্পেরও বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন,
“আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, বঙ্গোপসাগরের একটা অংশও আমাদের দেশ। এর পরিমাণ আমাদের মোট জমির চেয়েও বেশি। অথচ এই অর্ধেক দেশকে আমরা পরিকল্পনায় আনছি না।”
তিনি বলেন, এই সমুদ্রভাগ কেবল মৎস্য বা গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ নয়, এখান থেকে সমুদ্রভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম, নৌ-বিহার, দ্বীপভ্রমণ, কোরাল ও সামুদ্রিক প্রাণী পর্যবেক্ষণের মতো বহু ট্যুরিজম সম্ভাবনা গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, উপকূলীয় অঞ্চলকে ঘিরে সরকার নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন,
“গভীর সমুদ্রের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে মাছ আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও এর সঙ্গে সংযুক্ত শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রগুলোতে পর্যটনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা পর্যটন-যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও সহজতর করবে। এই বন্দরকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে নতুন সমুদ্রভ্রমণ রুট, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ তার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়তে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের পর্যটননীতি ও বিনিয়োগে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত।



