বিদেশ ভ্রমণ থেকে গৃহকর্মীর বেতন পর্যন্ত—রিটার্নে ৯ খাতের ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে

আয়কর রিটার্ন

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আপনি যদি নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাহলে শুধু আয়ের তথ্য দিলেই হবে না—জীবনযাত্রার খরচেরও বিস্তারিত হিসাব দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন করদাতার আয়ের সঙ্গে খরচের সংগতি খুঁজে দেখতে আগ্রহী। তাই ‘আইটি ১১(গ)’ ফরমের মাধ্যমে করদাতাকে বছরজুড়ে বিভিন্ন খাতে কতো টাকা ব্যয় করেছেন, তার হিসাব দিতে হচ্ছে।

বিশেষ করে যারা দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেন, অভিজাত স্থানে উৎসব পালন করেন কিংবা বাড়ি, গাড়ি, গৃহকর্মীসহ উন্নত জীবনযাপন করেন—তাদের এই তথ্যগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর কর্মকর্তারা এসব ব্যয়ের সঙ্গে আয় মিলিয়ে দেখেন, কেউ কর ফাঁকি দিচ্ছেন কি না।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কী কী খরচের তথ্য দিতে হয়—

১. পারিবারিক ভরণপোষণ

চাল, ডাল, মাছ-মাংস, তেল, লবণসহ পরিবারের খাবার ও বাজার খরচের বার্ষিক হিসাব দিতে হবে।

২. আবাসন ব্যয়

বাড়িভাড়া বাবদ বছরে কত টাকা খরচ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে।

৩. যানবাহন খরচ

যদি ব্যক্তিগত গাড়ি থাকে, তাহলে চালকের বেতন, জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও জানাতে হবে।

৪. সেবা খাত

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, মোবাইল, ইন্টারনেটসহ মাসিক ইউটিলিটি বিল এবং গৃহকর্মীর বেতন বছরের হিসেবে দিতে হবে।

৫. শিক্ষা খরচ

সন্তানদের টিউশন ফি, বই-খাতা, কোচিং সেন্টারে খরচের হিসাবও জমা দিতে হবে।

৬. দেশি ও বিদেশি ভ্রমণ ব্যয়

দেশের ভেতরে বা বাইরে ছুটি কাটাতে গিয়ে খরচ করা টাকার বিবরণ রিটার্নে জানাতে হবে। পর্যটকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ভ্রমণ খরচ কর কর্মকর্তাদের নজরে পড়ে বেশি।

৭. উৎসব ও বিশেষ আয়োজন

বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পার্টি কিংবা রিসোর্টে বড় আয়োজনের ব্যয়ও জানাতে হবে।

৮. উৎসে কর্তিত কর ও পূর্ববর্তী রিটার্নের ভিত্তিতে পরিশোধিত আয়কর

যেমন—সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর্তিত কর বা আগের বছর দেওয়া কর ও সারচার্জের বিস্তারিত।

৯. ঋণের সুদ পরিশোধ

ব্যাংক বা অন্য কোনো উৎস থেকে নেওয়া ঋণের ওপর পরিশোধ করা সুদের বার্ষিক পরিমাণও উল্লেখ করতে হবে।

করদাতাদের জন্য এসব তথ্য সংরক্ষণ করা এবং সঠিকভাবে রিটার্নে উপস্থাপন করা এখন বাধ্যতামূলক। তা না হলে কর কর্মকর্তাদের তদারকিতে পড়তে হতে পারে।

অতএব, যারা পর্যটক বা ভ্রমণপ্রেমী, তারা যেন ভ্রমণের খরচ ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব আগে থেকেই সংরক্ষণ করেন এবং রিটার্নে যথাযথভাবে তা উপস্থাপন করেন—এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

 

Read Previous

ঢাকায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা: দগ্ধদের চিকিৎসায় ভারত পাঠাচ্ছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম

Read Next

মিরপুর শেওড়াপাড়ায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, হতাহতের খবর নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular