
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের মনস্তাত্ত্বিক ও ক্ষমতার দূরত্ব বজায় রেখে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ‘প্রধান’ বা ‘বিশেষ’ অতিথি বলার প্রবণতা আমাদের সমাজে একটি শ্রেণিবিভাজন তৈরি করছে। এই ধারা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে সাভার উপজেলা চত্বরে ‘বেটার ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু করে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের দেশগুলোতে রাষ্ট্রপতিকেও ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ বলা হয়, সেখানে আমরা একে অপরকে ‘প্রধান’ বা ‘বিশেষ’ বলেই নিজেদের ভিন্ন গ্রহের মানুষ বানিয়ে ফেলি। এ থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়, যা সুশাসনের পথে অন্তরায়।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে যারা রোদে বসে গাছ লাগানোর উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন, তারাই প্রকৃত প্রধান অতিথি। আমি নই।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সাধারণ জনগণ ও পরিবেশপ্রেমীরা ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, “একটি জাতি রাতারাতি বদলায় না, কিন্তু পরিবর্তনের সূচনা হয়ে গেছে। এখন মানুষ আর অন্যায় মেনে নিচ্ছে না। তারা প্রতিবাদ করছে, সংগঠিত হচ্ছে — এটাই আশার আলো।”
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ধর্মেও গাছ লাগানোর নির্দেশ রয়েছে। যতক্ষণ গাছ না কেটে উন্নয়ন করা সম্ভব, ততক্ষণ তা না কাটা উচিত। একটি গাছ কাটলে তিনটি গাছ লাগাতে হবে। পরিবেশ রক্ষা ও নদী দূষণ রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সরকার।
এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সাভার উপজেলাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য এলাকার রূপ দিতে যাত্রা শুরু করেছে ‘বেটার ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট ইনিশিয়েটিভস’। এই কর্মসূচি শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিচ্ছে।



