
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যবসায়িক জগতে নারী নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইফাত জেরিন। মমস চয়েস বিডি, বেবি ব্র্যান্ড শপ, লিটিল বাডি বিডি, জেরিনস বেক এবং ডিজিটাল সাইন ভ্যালি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কেবল ব্যবসা পরিচালনা করছেন না, একই সঙ্গে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইফাত জানান, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা তার উদ্যোক্তা জীবনের ভিত্তি তৈরি করেছে। এআইইউবি থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিস্টিনশনসহ গোল্ড মেডেল অর্জন করা তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা, পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বের দক্ষতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। “শিক্ষা আমাকে ব্যবসায় কেবল দক্ষতা দেয়নি, আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে,” তিনি বলেন।
উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা এসেছে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে। “আমার সন্তান এবং ব্যবসায়িক পরিবার আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তাদের সমর্থন এবং উৎসাহ আমাকে কঠিন সময়েও এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”

ব্যবসা শুরু করার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময় ও অর্থের সঙ্কট। প্রোডাক্ট sourcing, বিক্রি ও ডেলিভারি—সবকিছু পরিকল্পনা করতে প্রচুর শ্রম, দূরদর্শিতা এবং মেধা প্রয়োজন হয়েছিল। তবে ইফাত সব বাধা অতিক্রম করেছেন। “প্রথম দিনে আমি পরিকল্পনা, শ্রম, এবং যোগাযোগ দক্ষতার মাধ্যমে ব্যবসার ভিত্তি গড়েছিলাম,” তিনি স্মরণ করেন।
তার ব্যবসায়িক ধারণার সূচনা হয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে। বাচ্চা হওয়ার পর মায়েদের মধ্যে ডিপ্রেশন এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ লক্ষ্য করে তিনি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
ইফাত উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে কাস্টমারের আস্থা অর্জনকেই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “নারী হিসেবে ব্যবসায় প্রবেশ করা সহজ নয়। ব্যাংক লোন পাওয়ায় সমস্যা হয়, তবে আমি মনে করি আর্থিক সহযোগিতা আরও সহজলভ্য করা উচিত।”

তার কোম্পানিগুলো—মমস চয়েস বিডি, বেবি ব্র্যান্ড শপ, লিটিল বাডি বিডি, জেরিনস বেক এবং ডিজিটাল সাইন ভ্যালি লিমিটেড—সমাজ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। “প্রত্যেক ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিচ্ছবি, একটি গল্প এবং দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর হাতিয়ার,” তিনি বলেন।
ইফাতের সবচেয়ে বড় গর্বের মুহূর্ত হলো যখন গ্রাহকরা বলেন, “আমি সবসময় আপনার পেজ থেকে কিনি, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি এবং সার্ভিস খুব ভালো।” তার মতে, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার ব্যবসার মূল চাবিকাঠি।
ব্যর্থতা বা সংকট মোকাবেলায় ইফাত বলেন, “ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কভাবে কাজ করলে দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, “আগামী পাঁচ বছরে দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী আমার কোম্পানিগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাই। ব্যক্তিগত জীবনে আমার লক্ষ্য হলো আরও ভালো সার্ভিস এবং মানসম্মত ব্যবসা তৈরি করা।”
উদ্যোক্তা তরুণীদের জন্য ইফাতের বার্তা: “কোনও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা বা নিজেই শুরু করা—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো ব্যবসায়িক দুনিয়ায় কাজে লাগে।”
ইফাত জেরিনের গল্প প্রমাণ করে, কেবল ব্যবসায়িক দক্ষতা নয়, দৃঢ় মনোবল, প্রেরণা এবং পরিবারের সমর্থন মিলিয়ে একজন নারী উদ্যোক্তা দেশের অর্থনীতিতে এবং সমাজে অসামান্য অবদান রাখতে পারেন। তার নেতৃত্বের ছাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে মমস চয়েস বিডি, বেবি ব্র্যান্ড শপ, লিটিল বাডি বিডি, জেরিনস বেক এবং ডিজিটাল সাইন ভ্যালি লিমিটেড-এর ব্যবসায়িক সাফল্যে।
সাক্ষাতকার গ্রহন: নাদিয়া আক্তার



