১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ ডিসেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে ফিরছে প্রাণ—চলাচল শুরু জাহাজ, মিলছে রাত্রিযাপনের সুযোগ

সেন্টমার্টিন দ্বীপ

সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও খুলতে যাচ্ছে নীল জলের প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের দরজা। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ নিয়মিত চলাচল শুরু করবে, আর এইবার থাকছে ভ্রমণকারীদের বহুল প্রতীক্ষিত রাত্রিযাপনের সুযোগও। দুই মাসের বিশেষ মৌসুমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন—পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থেই সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।

জাহাজ চলাচল শুরু ১ ডিসেম্বর থেকে

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল সাতটায় যাত্রা শুরু করবে পর্যটকবাহী জাহাজ। প্রায় ১২০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে জাহাজ সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় নেবে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। পরদিন বেলা তিনটায় একই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে।

চলতি মৌসুমের জন্য সাতটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে—এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, এমভি বে ক্রুজ, এমভি কাজল, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এবং আটলান্টিক ক্রুজ। প্রতিটি জাহাজেই পর্যটকদের জন্য বেসিক নিরাপত্তা ও আরামের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাত্রিযাপন চালু—পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে

গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও রাতে থাকার অনুমতি না থাকায় বাস্তবে কেউই সেখানে যাননি। জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ জানায়, রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে ভ্রমণকারীদের আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়। তাই জাহাজ চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, ডিসেম্বর থেকে দুই মাস পর্যটকদের রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়ায় বুকিং বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগেভাগেই পরিকল্পনা করছেন দুই-তিন দিনের ট্রিপ সাজানোর জন্য।

অনলাইনে টিকিট বাধ্যতামূলক—নকল টিকিটে ‘না’

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে এবার বেশ কিছু নতুন নিয়মও কার্যকর হয়েছে। ভ্রমণকারীদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট নিতে হবে। প্রতিটি টিকিটে থাকবে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড। সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিষ্কার জানিয়েছে—কিউআর কোড ছাড়া কোনো টিকিট গ্রহণযোগ্য হবে না; সেগুলো সরাসরি নকল হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান দ্বীপমুখী হতে পারবে না। অর্থাৎ সেন্ট মার্টিনে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ এবার আরও শক্তিশালী।

পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি

প্রবাল দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা কঠোরভাবে মানতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা জানান, পর্যটক পারাপারের সময় প্রতিটি জাহাজ নিবিড় নজরদারির আওতায় থাকবে। নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট এবং সেন্ট মার্টিন জেটিঘাট—দুই স্থানেই পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। উদ্দেশ্য একটাই—নিয়ম ভঙ্গ রোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা।

পর্যটনে নতুন রঙ—সুশৃঙ্খলতা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন যে সেন্ট মার্টিনকে টেকসই পর্যটনের আওতায় আনা জরুরি। যেখানে পর্যটকের স্রোত থাকবে নিয়ন্ত্রিত, পরিবেশের ক্ষতি হবে না, কিন্তু মানুষও উপভোগ করতে পারবে দ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য। সরকারের নতুন নির্দেশনাগুলোকে অনেকেই দেখছেন সেদিকেই এক ধাপ এগোনো।

জাহাজ মালিক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী—সবার প্রত্যাশা, এবার মৌসুমটা সফল হবে। রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকরা বেশি দিন থাকতে পারবেন, দ্বীপের অর্থনীতি সচল হবে আর সরকারও কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে পারবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে সেন্ট মার্টিনের পর্যটন আবারও জেগে উঠতে চলেছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে এবং পরিবেশ রক্ষার নীতি মানা হলে নীল জলের এই স্বর্গীয় দ্বীপ দেশের পর্যটনে নতুন উদ্দীপনা আনবে—এ নিয়েই এখন সবার প্রত্যাশা।

Read Previous

ঢাকা রিজেন্সিতে শুরু হলো শীতের আকাশছোঁয়া BBQ Fiesta: খাবার, সঙ্গীত আর রুফটপের অনন্য সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা

Read Next

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular