
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ ‘গ্র্যান্ড মুফতি’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট আলেম শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে সৌদি প্রেস এজেন্সি নিশ্চিত করেছে, বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ তার ছেলে ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সুপারিশে ৯০ বছর বয়সী এই আলেমকে দেশের প্রধান ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন।
আল-কাসিম প্রদেশে জন্ম নেওয়া শেখ সালেহ ছোটবেলাতেই পিতৃহারা হন। স্থানীয় এক ইমামের কাছে কোরআন শিক্ষা দিয়ে তার ধর্মীয় যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি রেডিও অনুষ্ঠান নূর আলা আল-দারব (আলোয় পথচলা)-এর মাধ্যমে সারাবিশ্বে পরিচিতি পান। পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান, ধর্মীয় বক্তৃতা এবং অসংখ্য ইসলামী গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তবে দীর্ঘ ধর্মীয় ক্যারিয়ারে বিতর্কও কম হয়নি। ২০১৭ সালে শিয়া মুসলিমদের ‘শয়তানের ভাই’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েন। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তপ্ত থাকায় সে সময় এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তিনি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদেরও কড়া সমালোচনা করেন, বিশেষত যখন তারা সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোর দিকে হামলা চালায়।
২০১৬ সালে জনপ্রিয় গেম পোকেমন গো নিষিদ্ধ করার ফতোয়া দিয়েছিলেন শেখ সালেহ। তার মতে, গেমটি জুয়ার মতোই অনৈতিক। এই বক্তব্য সেই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়—বিশেষ করে এখন যখন সৌদি সরকার নিনটেন্ডো ও নিয়ানটিক কোম্পানিতে বড় বিনিয়োগকারী।
এর আগে ২০০৩ সালে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, “দাসপ্রথা ইসলামের অংশ, জিহাদের অংশ, আর যতদিন ইসলাম থাকবে, ততদিন জিহাদও থাকবে।” পরে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘জিহাদ’ বলতে তিনি আধ্যাত্মিক অর্থে আত্মসংগ্রাম বা আত্মশুদ্ধিকেই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
শেখ সালেহ গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন শেখ আব্দুলআজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শেখ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে। প্রায় ২৫ বছর ধরে এই পদে থাকা শেখ আব্দুলআজিজ গত সেপ্টেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।
এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে গ্র্যান্ড মুফতির পদ প্রথমবারের মতো আল-শেখ পরিবারের বাইরে গেল। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারের সদস্যরাই এই পদে ছিলেন। তাদের পূর্বপুরুষ শেখ মোহাম্মদ ইবনে আবদুল-ওয়াহাবের শিক্ষা থেকেই সৌদি রাষ্ট্রের ধর্মীয় দর্শন ও নীতির ভিত্তি গঠিত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সুন্নি মুসলমানদের কাছে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মক্কা ও মদিনার মতো ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র নগরীর রক্ষক দেশ হওয়ায়, এই পদধারীর ফতোয়া ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলে।



