
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বিশাল প্লাস্টিক ভাস্কর্য ‘বর্জ্যদানব’ অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে স্থাপন করা এই ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শেষ হয় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে।
ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্যই এই শিল্পকর্মটি তৈরি করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময় শেষে পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় থাকে।
সংগঠনের দায়িত্বশীলরা জানান, অপসারণ কার্যক্রম কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয় এবং এতে অংশ নেন একদল স্বেচ্ছাসেবক। ভাস্কর্যটি খুলে ফেলার পর এর সব প্লাস্টিক আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পুনর্ব্যবহারের জন্য রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। পুরো উদ্যোগেই কোনো বাণিজ্যিক শ্রম ব্যবহার করা হয়নি।
জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকা থেকে সংগৃহীত প্রায় ১০ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার করে প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজে সময় লেগেছিল টানা কয়েক সপ্তাহ। এতে যুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ-এর একদল শিল্পী। প্লাস্টিকের পাশাপাশি কাঠ, বাঁশসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে ভাস্কর্যটিকে বাস্তব ও ভয়াবহ রূপ দেওয়া হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, এই ‘বর্জ্যদানব’ শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং এটি ছিল সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের বিপজ্জনক ভবিষ্যতের প্রতীক। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপ দিন দিন বাড়ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ভবিষ্যতেও এমন প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের মতে, সচেতনতা তৈরি না হলে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই সম্ভব নয়, আর সেই বার্তাই ‘বর্জ্যদানব’ দিয়ে তুলে ধরা হয়েছিল।


