
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এবার মোট ২৬টি কোরবানির পশুর হাট বসবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর মধ্যে প্রতিটি করপোরেশনের আওতায় ১৩টি করে হাট পরিচালিত হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে যে, ঈদের আগে থেকেই নগরবাসী সহজে এবং সুসংগঠিতভাবে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১৩টি হাট বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি অস্থায়ী হাট এবং একটি স্থায়ী হাট রয়েছে। স্থায়ী হাটটি সারুলিয়ায় অবস্থিত। অস্থায়ী হাটগুলো বসবে বিভিন্ন খালি জায়গায়, যেমন পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ে, উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায়, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায়, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় এবং শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গায়। এছাড়া আফতাব নগরের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গায়, শিকদার মেডিকেলের সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায়, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প সংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত জায়গায়, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গায়, মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গায় এবং গোলাপবাগের আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায়ও অস্থায়ী হাট বসবে। এসব স্থান নির্বাচনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ১২টি অস্থায়ী হাট বসানো হবে। এসব অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে খিতক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬-এর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া ও ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা, কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গায়ও হাট বসবে। উত্তরাঞ্চলের এই হাটগুলো নগরের উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমাংশের মানুষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার ঘোষিত দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনাবেচা চলবে। এতে করে বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাটে পশু বেচাকেনা শুরু হয়ে যায়। এমন অনিয়ম রোধে করপোরেশনগুলোকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। এছাড়া হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে শুধু কোরবানির উৎসবই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে না, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও চাঙ্গা হবে।
এই ২৬টি হাটের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার লাখো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা স্থানীয়ভাবে পশু কিনতে চান, তাদের জন্য এই অস্থায়ী হাটগুলো বড় সুবিধা তৈরি করবে। করপোরেশনগুলো আশা করছে, ইজারাদার নির্বাচনের পর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলো এবং পানির ব্যবস্থা থাকবে।


