
বিএনপি থেকে ৪ নেতা বহিষ্কার
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সহিংসতা ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যার পর সীতাকুণ্ডে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হানাহানি, ও রাস্তা অবরোধের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সীতাকুণ্ড উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বাবর, সীতাকুণ্ড পৌরসভার আহ্বায়ক মামুন, এবং যুবদলের সোনাইছড়ী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপি জানিয়েছে, এই চার নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এদের সবাইকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকদের সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাদের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানায়, দল কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করবে না। নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “যারা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ধারায় বিশ্বাস করে।”
চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা
এর আগে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে আছেন দলের কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন (চেয়ারম্যান),
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরওয়ার আলমগীর,
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে কাজী সালাউদ্দিন,
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন,
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী,
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ,
চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মোহাম্মদ এনামুল হক,
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম,
এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী।
বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বাকী আসনগুলোর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড দ্রুতই তা ঘোষণা করবে। তবে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের এই ধাপেই তৃণমূল পর্যায়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন নয়। তবে নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহিংসতা ও বহিষ্কারের ঘটনা দলীয় সংহতিতে আঘাত হানতে পারে। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন বণ্টন ও তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এক বিশ্লেষক বলেন, “সীতাকুণ্ডের ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বিএনপির ভেতরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে যে চাপা উত্তেজনা ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কেন্দ্র যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এসব স্থানীয় দ্বন্দ্ব পুরো নির্বাচনী কৌশলকেই বিপর্যস্ত করতে পারে।”
বিএনপির একাধিক নেতা অবশ্য দাবি করেছেন, বহিষ্কারের মাধ্যমে দল এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সীতাকুণ্ড সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে বিবেচিত। এবার সেই আসনেই প্রার্থী ঘোষণার পর সহিংসতার ঘটনা দলীয় নেতৃত্বকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপি কীভাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ন্ত্রণে আনে।



