সিলেটে রাত ৯:৩০টার পর সব বাণিজ্যিক দোকান বন্ধ থাকবে: যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নতুন উদ্যোগ 

সিলেটে রাত ৯:৩০টার পর সব বাণিজ্যিক দোকান বন্ধ থাকবে: যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নতুন উদ্যোগ 

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সিলেট শহরের দৈনন্দিন জীবন ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। ৭ ডিসেম্বর থেকে রাত ৯:৩০টার পর শহরের সব ধরনের বাণিজ্যিক দোকান বন্ধ রাখতে হবে। শুধু হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ওষুধের দোকান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। শহরের যানজট কমানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং স্থানীয় বাজারগুলোর দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন বাজার কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতাও জরুরি।

এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট—শহরের ট্র্যাফিক এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা আর অবহেলাযোগ্য নয়। প্রতিদিন অফিস সময় কিংবা সন্ধ্যার ব্যস্ততায় রাস্তায় নেমে মানুষ যে দুর্ভোগ পোহায়, তা কমিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। পুলিশ মনে করছে, রাতের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সীমিত করলে যান চলাচলের চাপ কমবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

সভায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের সব বাজার ও শপিং মলের নির্ধারিত পার্কিং এলাকা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং এসব এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত দোকানপাট ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই অপসারণ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারগুলোর ভেতরে তৈরি এসব দোকান পার্কিং স্পেস দখল করে রেখেছে, ফলে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করানো ছাড়া shoppers বা সাধারণ মানুষদের আর বিকল্প থাকে না। এর ফলেই ট্র্যাফিক আরও জটিল হয়।

পুলিশ কমিশনার বললেন, অনুমোদিত পার্কিং পরিকল্পনা অমান্য করে এসব স্থাপনা তৈরি হওয়ায় বাজারগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তিনি বাজার কমিটিগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান, তারা যেন এই অবৈধ দোকান সরিয়ে নিতে পুলিশকে সহযোগিতা করে; প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত একাধিক বাজার কমিটির নেতা জানান, ব্যবসায়ীরা কিছুটা সময় চাইলেও সার্বিক দিক বিবেচনায় পুলিশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শহরের স্বার্থেই। কিছু ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে রাত ৯:৩০টার নিয়ম প্রথম দিকে ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তারা স্বীকার করেছেন যে শহরের ট্র্যাফিক পরিস্থিতি ঠিক না হলে সামগ্রিক ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।

এসএমপি জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত নজরদারি থাকবে। রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পার্কিং এলাকা পুনরুদ্ধারের কাজও ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে।

সব মিলিয়ে, সিলেট এখন এমন এক সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যখন শহরের স্বাভাবিক চলাচল, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রাতের নিরাপত্তা নতুন নিয়মের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাস্তবায়ন কতটা কঠোর হবে, কিংবা ব্যবসায়ীরা কতটা সহযোগিতা করবেন—তা সময়ই বলে দেবে। তবে শহরের মানুষের প্রত্যাশা একটাই: সিদ্ধান্তগুলো যদি সত্যি ঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়, তাহলে সিলেট হবে আরও বাসযোগ্য, আরও চলাচলযোগ্য একটি শহর।

Read Previous

জার্মান রাষ্ট্রদূতের সুন্দরবন সফর: সংরক্ষণ সহযোগিতায় নতুন আস্থার বার্তা

Read Next

জেরিকোয়াকোয়ারা সৈকত: ব্রাজিলের মরুভূমি, সমুদ্র আর সূর্যাস্তের অপূর্ব মিলনে তৈরি এক স্বপ্নরাজ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular