
সারাদেশ জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে ভাড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এরি পরিক্রমায় পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সিলেটে কয়েক দিন ধরেই নদ-নদীর পানি হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর পর্যটনের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়ে। এছাড়াও পানিকেন্দ্রিক ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আজিজুন্নাহার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্থিতিশীল হলে পুনরায় পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়া হবে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, “বর্ষা মৌসুমই মূলত সিলেট বেড়ানোর উপযুক্ত সময়। তবে এবার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আবার অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এমন পরিস্থিতিতে পানিকেন্দ্রিক প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে আরও জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঈদ উপলক্ষ্যে শুরু হবে টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটি। যেহেতু বর্ষা মৌসুমেই সিলেট ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, আর এ সময় সিলেট সবুজ, স্নিগ্ধ ও মায়াবী হয়ে ওঠে, তাই এ সময়ে অনেক পর্যটক সিলেটে বেড়াতে আসেন। ছুটি শুরু হওয়ার আগে অতিবৃষ্টি ও ঢল কমে গেলে নদ-নদীর পানিও অনেকেটাই কমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সাদাপাথর ছাড়া কোনো পর্যটনকেন্দ্রই বন্ধ করা হয়নি। স্রোতের তীব্রতা থাকলে মাঝিরা নিজ উদ্যোগেই পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে বেড়ানোর নৌ চলাচল বন্ধ রাখছেন। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সময় যেহেতু আরও বাকি আছে, তাই এ সময়ে পানি বাড়ার হার দেখে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



