
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির মতোই পিতৃত্বকালীন ছুটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত বিধি সংশোধনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে ২০১১ সাল থেকে সরকারি চাকরিজীবী মায়েরা ছয় মাসের সবেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাচ্ছেন। কিন্তু বাবাদের জন্য এখনো কোনো আইনি সুবিধা নেই। ফলে সন্তান জন্মের পরও অনেক কর্মজীবী বাবাকে হাসপাতালে অসুস্থ স্ত্রী-সন্তান রেখে অফিস করতে হয়। এতে পরিবার ও নবজাতকের যথাযথ পরিচর্যা ব্যাহত হয়।
তিনি বলেন, নবজাতক জন্মের পর প্রথম দেড় মাস মায়ের শারীরিক অবস্থা বেশ নাজুক থাকে। এ সময় বাবার সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের ছুটি চালু রয়েছে। পাকিস্তানে এক মাস, ভারতে ১০ দিন, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় ১০ দিন, আর স্পেনে বাবারা পাচ্ছেন ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত পিতৃত্বকালীন ছুটি। বাংলাদেশের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন আড়ং, ব্র্যাক ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এই সুবিধা দিচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবেতনে ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মা ও বাবার মানসিক চাপ কমবে, পরিবারে ভারসাম্য আসবে এবং সন্তান জন্মের পর প্রথম দিনগুলোতে বাবা সরাসরি যত্ন নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধানে কেবল মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীরা পিতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা পাবেন।


