শাহেনশাহ গুহা: কিংবদন্তির ৪০০ বছর, অবহেলায় হারাচ্ছে পর্যটন আকর্ষণ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: কক্সবাজারের হিমছড়িতে পাহাড়, সাগর আর লোককথার অনন্য মেলবন্ধন—শাহেনশাহ গুহা। চার শতাব্দী ধরে প্রচলিত ‘হিমপরি’ ও আরব বণিক শাহেনশাহের প্রেম কাহিনির সাক্ষী এই ৭০০ ফুট দীর্ঘ প্রাকৃতিক গুহা একসময় ভরপুর ছিল পর্যটকের পদচারণায়। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এর সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা।

হিমছড়ির পাশেই ‘হিমপরির ঝরনা’, যা পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসে সাগরের দিকে। এখানেই বাণিজ্যতরী ডুবির পর শাহেনশাহের হিমপরির দেখা মেলে এবং প্রেমে পড়েন তিনি। কিন্তু জঙ্গলে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেন এই গুহায়। লোককথার সেই গুহাই আজকের শাহেনশাহ গুহা, যা পর্যটকদের কাছে এক সময় ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে ছয় কিলোমিটার দক্ষিণে দরিয়ানগর পর্যটনপল্লির মধ্যেই অবস্থিত গুহাটি। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে গুহায় প্রবেশ করলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস, পাথরের ফাঁক দিয়ে জঙ্গলের ঝলক, আর সাগরের গর্জন যেন ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। কবি কামরুল হাসানের মতে, এখানে প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও লোককথা মিলেমিশে এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করেছে। অতীতে দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি-সাহিত্যিকের মিলনমেলা বসত এই গুহাকে ঘিরে।

তবে এখন সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর নেই। কয়েক বছর ধরে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিদর্শনে দেখা গেছে, গুহার ভেতর ও প্রবেশপথ জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, পড়ে থাকা গাছপালা, খসে পড়া মাটি, পলিথিন, ক্যান, সিগারেটের ফিল্টার ও প্লাস্টিক বোতলে ভরে আছে স্থানটি। মশা-মাছির উৎপাতও বেড়েছে।

পর্যটনকেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক জানান, বরাদ্দের অভাবে গুহা সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। গাছ ভেঙে পড়া বা ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্ব ইজারাদারের হলেও, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি থাকায় পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতে ইজারার মেয়াদ শেষ হলে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত ও যাতায়াতের রাস্তা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে শাহেনশাহ গুহার পর্যটন সম্ভাবনা। অথচ সামান্য উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি আবারও কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

Read Previous

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩০.২৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স প্রবাহ উদ্বেগ কাটাল

Read Next

জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরায়েলের গাজা দখল পরিকল্পনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular