শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট চালু: নিরাপত্তা ও সেবা উন্নয়নে নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট আবারও যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।”

ই-গেট ব্যবস্থা মূলত যাত্রীদের দ্রুত পাসপোর্ট স্ক্যান ও অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়। এটি বিমানবন্দরের সেবা কার্যক্রমকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে ই-গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। তাই পুনরায় চালুর ফলে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সভায় শুধুমাত্র বিমানবন্দরের বিষয়ই নয়, বরং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আজকের বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল— মাদক নিয়ন্ত্রণ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা অবস্থা।”

সভায় সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুট হওয়া অস্ত্র কীভাবে দ্রুত উদ্ধার করা যায় এবং সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই ফল পাওয়া যাবে।”

বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা

সভার আলোচনায় বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর কিছু এলাকায় ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনাও উঠে আসে। তিনি বলেন, “গতকাল বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর কয়েকটি জায়গায় ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় এসব বক্তব্যের কোনো সত্যতা থাকে না, কিন্তু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আপনারাই সবচেয়ে ভালোভাবে এসব উসকানিমূলক বক্তব্য প্রতিহত করতে পারেন। যদি কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যাচাই না করে কোনো খবর প্রকাশ করবেন না, কারণ সত্য সংবাদই মিথ্যা প্রচারণার জবাব।”

ই-গেট চালুর প্রভাব

ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের অগ্রাধিকার ছিল। শাহজালাল বিমানবন্দরে ই-গেট চালুর ফলে বিদেশগামী ও আগত যাত্রীরা এখন আরও সহজ ও দ্রুত সেবা পাবেন। আধুনিক এই সিস্টেমে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। ফলে হাতে হাতে যাচাইয়ের সময় কমে যায় এবং নিরাপত্তা জোরদার হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ই-গেটের মাধ্যমে পাসপোর্ট স্ক্যান, মুখ ও আঙুলের ছাপ যাচাইসহ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো সম্পন্ন করা যাবে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই। এতে একদিকে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, অন্যদিকে কর্মকর্তাদের কাজের চাপও কমবে।

উপস্থিতি ও নেতৃত্ব

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা। বৈঠকে তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত দেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

সভা শেষে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যেন দেশের মানুষ নিরাপদ থাকে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ই-গেট চালু হওয়াও সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গেল ডিজিটাল সেবা ও আধুনিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনার পথে। এটি শুধু বিমানবন্দরের কর্মপ্রক্রিয়া নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও আরও উন্নত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read Previous

শাহজালাল বিমানবন্দরের স্ট্রং রুমে রহস্যজনক তালা ভাঙা: মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার শঙ্কা

Read Next

নিসর্গের নতুন ঠিকানা: পূর্ব সুন্দরবনের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে শুরু হচ্ছে নতুন পর্যটন যাত্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular