
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : চট্টগ্রামের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর সৈকতে সম্প্রতি ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা—সাগরের বুকে ফিরে গেছে জলপাইরঙা কাছিমের ১০ হাজার ৫৩টি নবজাত শাবক। এ যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিঃশব্দ এক চুক্তি, যেখানে ছোট একটি উদ্যোগ হয়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক অনন্য নজির।
প্রাকৃতিক প্রজননের নিরাপদ ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সংস্থা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)। আইইউসিএন ও জিআইজেড-এর সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পে গত শীত মৌসুমে ১২৯টি মা কাছিমের বাসা থেকে সংগ্রহ করা হয় ১৪,৭২২টি ডিম। এসব ডিম হ্যাচারিতে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষণ করে সফলভাবে ফোটানো হয় ১০,০৫৩টি বাচ্চা, যাদের ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সাগরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম থেকে সাগরে ফিরে যাওয়ার প্রথম সপ্তাহই কাছিম শাবকদের জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক হুমকির কারণে ৯৮.৫% কাছিম বেঁচে থাকতে পারে না। তবুও যারা বেঁচে থাকে, তারাই একদিন বড় হয়ে ফিরে আসে এই একই উপকূলে, নতুন প্রাণের আশায়।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে এবারই প্রথম ৪টি মা কাছিমকে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হয়। ফলাফল ছিল চমকপ্রদ—একটি মা কাছিম ১৪৪ দিনে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কার মুল্লাইথিভু উপকূলে। বাকি তিনটিও হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে ঘুরে বেড়ায় ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন এলাকায়।
এই তথ্যগুলো শুধু গবেষণার জন্য নয়, পর্যটন ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কাছিম সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন নেই কোনো বিশাল অবকাঠামোর; বরং দরকার কয়েক কিলোমিটার নিরাপদ, আলোকদূষণমুক্ত সৈকত।
বিশেষ করে শীতকালে কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলকে যদি করা যায় জালমুক্ত ও কৃত্রিম আলোবিহীন, তাহলে মা কাছিমেরা নিরাপদে ফিরে আসবে ডিম পাড়তে—প্রতিবছরই।
এই প্রকল্পের সাফল্য শুধু পরিবেশবাদীদের জন্য নয়, বরং টেকসই ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার পথেও এটি হতে পারে একটি দিকনির্দেশনা।
পর্যটন সংবাদ বিশ্বাস করে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উপকূলীয় সম্পদ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রেও নতুনভাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারবে।



