লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে মরিচ স্প্রে হামলা: ২১ জন আহত, যাত্রীদের ভ্রমণ বিঘ্নিত

হিথ্রো বিমানবন্দর

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে রবিবার সকালে এক অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে, যেখানে মরিচ স্প্রে হামলার ফলে অন্তত ২১ জন আহত হন। এই ঘটনায় যাত্রী ও কর্মীরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যায়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৮টার দিকে টার্মিনাল ৩-এর পার্কিং গ্যারেজে এক হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, চারজনের একটি দল একটি মহিলার স্যুটকেস ছিনিয়ে নেওয়ার সময় মরিচ স্প্রে ব্যবহার করে। হামলার ফলে পার্কিং লিফটে উপস্থিত বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কর্মী আহত হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

কমান্ডার পিটার স্টিভেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, সরাসরি জড়িতরা একে অপরের পরিচিত। তিনি বলেন, “লিফটে সংঘটিত এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তারা একে অপরকে চেনেন। আমরা ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

হিথ্রো বিমানবন্দর এলাকায় তৎকালীন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। পার্কিং গ্যারেজ ও টার্মিনাল অঞ্চলে যাত্রীরা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে, কিছু টার্মিনালে ট্রেন চলাচলও বন্ধ থাকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক করে, অতিরিক্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ করার এবং যেকোনো সমস্যায় বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।

লন্ডন অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস জানিয়েছে, হামলার সময় আহত ২১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন তিন বছরের শিশু। পাঁচজনকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ হালকা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও, এই ধরনের ঘটনা যাত্রীদের মানসিক চাপ বাড়ায়।

হিথ্রো ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর। গত বছর এটি ৮০ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রীকে সেবা প্রদান করেছে। তাই এই হামলার প্রভাব শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর নয়, পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায়ও পড়ে। রাস্তাঘাট ও টার্মিনালের চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী তাদের ফ্লাইট মিসের ঝুঁকিতে পড়েন।

জাতীয় মহাসড়কের সূত্র জানিয়েছে, টার্মিনাল ৩ এবং ২-এর হাইওয়ে প্রায় এক ঘন্টা বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় খোলা হয়, যদিও ভেতরে যানবাহন ও পথচারীর সংখ্যা বেশি থাকায় এটি আবার সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। তবে আধ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় খোলা হয়। কিছু যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বিমানবন্দর পৌঁছতে দেখা যায়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, যাত্রীরা বিমানবন্দরে ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত সময় বিবেচনা করবেন এবং যেকোনো সমস্যার জন্য বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিবিসি জানিয়েছে, হামলার সময় এলিজাবেথ লাইনের ট্রেন পরিষেবা এক ঘন্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।

এই ঘটনা হিথ্রো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা হবে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

উপসংহারে, হিথ্রো বিমানবন্দরে মরিচ স্প্রে হামলা শুধু আহতদের জন্যই নয়, পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা যেতে পারে। সুরক্ষা ব্যবস্থা ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার সময়ক্ষেপণ কমানো এক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ তৎপরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং পুনরায় এমন ঘটনা ঘটতে না দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই হামলার ঘটনা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে তারা সবসময় বিমানবন্দরে সতর্ক থাকে এবং যেকোনো সমস্যার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

Read Previous

ইতালির লেক ক্রুইসিস: পাহাড়, হ্রদ, ইতিহাস ও পর্যটন অভিজ্ঞতার পূর্ণাঙ্গ তথ্যভ্রমণ

Read Next

বিজয় দিবসে আকাশজুড়ে বাংলাদেশের নতুন বিশ্ব রেকর্ডের প্রস্তুতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular