
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. Department of State) ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) ইস্যু করা স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের উপর প্রযোজ্য। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে সরকারি সহায়তা (পাবলিক বেনিফিটস) গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এই নীতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে, যাতে অভিবাসীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন এবং আমেরিকানদের উপর বোঝা না হন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভিজিটর ভিসা (B1/B2), স্টুডেন্ট ভিসা (F), ওয়ার্ক ভিসা (H-1B) বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এর আওতায় পড়ে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিজিটর ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বন্ড (বন্ড পোস্ট) জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে, যা $১৫,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এই ৭৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোট ডি’ভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কির্গিজ রিপাবলিক, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নর্থ ম্যাসেডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটগুলো ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ অব্যাহত রাখবে। কিন্তু ভিসা ইস্যু করা হবে না যতক্ষণ না এই পর্যালোচনা শেষ হয়। এটি একটি অনির্দিষ্টকালীন (indefinite) স্থগিতাদেশ, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং আমেরিকানদের উপর অর্থনৈতিক বোঝা সৃষ্টি করা যাবে না। এই নীতি পাবলিক চার্জ (public charge) নিয়মের সাথে সম্পর্কিত, যা অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করে ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন (যেমন: স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতামাতা) বা অন্যান্য অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন। এখন তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হবে। তবে ডুয়াল ন্যাশনালিটি (দ্বৈত নাগরিকত্ব) থাকলে এবং অ-প্রভাবিত দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করলে এই স্থগিতাদেশ থেকে ছাড় পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি পরিবর্তন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর আগে প্রেসিডেনশিয়াল প্রক্লামেশন ১০৯৯৮-এর অধীনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণে কিছু দেশের উপর ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। এখন পাবলিক বেনিফিটসের উপর ফোকাস করে আরও বিস্তৃত স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো।
আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট travel.state.gov দেখুন বা ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভিসা সেকশনের সাথে যোগাযোগ করুন। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে নতুন আপডেট প্রকাশিত হবে।



