
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে গত বুধবার, যেখানে প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম দিনটি ছিল ফলপ্রসূ ও গভীর। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তাঁর সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আলোচনায় অংশ নেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও।
পাল্টা শুল্কে চাপে রপ্তানিখাত
আলোচনার পটভূমি বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে, যদি না দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যঘাটতির সমাধান হয়।
বিশ্বব্যাপী মোট ১৪টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইতিমধ্যে চুক্তি হলেও ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রপ্তানিকারকদের শঙ্কা: অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে কারখানা
শুল্ক বাড়ার সম্ভাবনায় চরম উদ্বিগ্ন দেশের রপ্তানিকারকেরা। তাঁরা বলছেন, ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত—তৈরি পোশাক, পাট, কৃষিপণ্য ও হালকা প্রকৌশল—চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক কারখানার টিকে থাকাই দুরূহ হয়ে উঠবে।
তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন, তুলা ও বোয়িং বিমান আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, প্রথম দিনের আলোচনা ছিল ব্যাপক ও তথ্যবহুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগামী দিনের বৈঠকে নতুন অগ্রগতি হবে।
অপেক্ষার পালা
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শুরু হবে। আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে সকলেই অপেক্ষায় আছেন। বাংলাদেশের পর্যটনবান্ধব অর্থনীতির জন্য এই আলোচনা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে সবাই একমত।



