মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধের কারণে বাংলাদেশে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা ও আকাশসীমা বন্ধের কারণে গত ছয় দিন ধরে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় ২১০টি এবং চট্টগ্রামে ৫০টি ফ্লাইট রয়েছে। এই সংকটে হাজার হাজার যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের মতো দেশগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বাতিলের দিন ছিল ২ মার্চ, যেদিন ৪৬টি ফ্লাইট বন্ধ হয়। এরপর ১ মার্চে ৪০টি, ৩ মার্চে ৩৯টি এবং আজ ৫ মার্চে অতিরিক্ত ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এয়ার এরাবিয়া, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, গাল্ফ এয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আজ ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

এই সংকটের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ সকালে তারা দুবাই থেকে আটকে পড়া ৩৭৮ জন বাংলাদেশী যাত্রীকে নিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনা করে ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে। এই ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭ জন কেবিন ক্রু সদস্যও ছিলেন যারা সেখানে আটকা পড়েছিলেন। দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ৪৩৬ আসন বিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩৩০ বিমানটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, “যাত্রীদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। ঈদ-উল-ফিতরের আগে আরও আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার জন্য আবুধাবি ও শারজাহ থেকে অতিরিক্ত বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতির আবেদন করা হয়েছে।”

ফিরে আসা যাত্রীরা তাদের কষ্টের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। অনেকে অতিরিক্ত খরচ করে নতুন টিকিট কিনতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এয়ারলাইন্সের এই উদ্যোগে পরিবারগুলো পুনরায় একত্রিত হওয়ায় বিমানবন্দরে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এয়ারলাইন্সগুলোকে যাত্রীদের এসএমএস, ইমেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত করে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করতে।

বিমান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Read Previous

যুদ্ধবিধ্বস্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

Read Next

জিসিসিতে ২৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিমান সংস্থা ও পর্যটন খাতে ব্যাপক প্রভাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular