
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়ে ব্যক্তিগত অনুরোধ জানানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এ ধরনের অনুরোধ দূতাবাসের নির্ধারিত সময়সূচি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করছে, যা সেবা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
বুধবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, ভিসা সেবায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণেই তারা কোনো আবেদনকারীকেই বিশেষ বিবেচনায় আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয় না। কে কোন পরিচয়ে বা কোন কারণে আবেদন করছেন, সেটি বিবেচনায় না এনে সবাইকে একই নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হয়।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভিসা আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। এর বিপরীতে সীমিত জনবল ও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রতিদিনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে যদি বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্টের অনুরোধ গ্রহণ করা হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং প্রকৃত অর্থে যাঁরা অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের প্রতি অবিচার করা হবে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ভিসার জন্য আগ্রহী সবাইকে অবশ্যই নির্ধারিত ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। ব্যক্তিগত ই-মেইল, ফোনকল, সুপারিশ, কিংবা বিশেষ কারণ দেখিয়ে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি জরুরি বা মানবিক কারণ দেখিয়েও নিয়মের বাইরে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয় না বলে জানানো হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানায়, নিয়ম মেনে আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে করে ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে আবেদনকারীরাও উপকৃত হন। বিশেষ অনুরোধের চাপ কমলে কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন যাচাই ও সেবা প্রদান করতে পারেন, যা সামগ্রিকভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে।
জার্মান দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করে, নিয়ম মেনে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সংগত পথ। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমবে এবং ভিসা সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান ঘটবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে বর্তমানে ভিসা আবেদনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণ—সব মিলিয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এই বাস্তবতায় দূতাবাসগুলোর পক্ষে নিয়মের বাইরে গিয়ে আলাদা সুবিধা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। জার্মান দূতাবাসের এই ঘোষণা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের এই বার্তা পরিষ্কার—ভিসা পেতে হলে কোনো শর্টকাট নেই। নির্ধারিত নিয়ম, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং অপেক্ষমাণ তালিকাই একমাত্র পথ। আবেদনকারীরা যদি এই বিষয়টি মেনে নেন এবং ধৈর্য ধরে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তাহলে ভিসা সেবা আরও সুশৃঙ্খল, দ্রুত এবং ন্যায়ভিত্তিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।



