বোয়িংয়ে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত, ৪০০-এর বেশি বেকার

এবার উড়োজাহাজ নির্মাণ-খাতের বৃহত্তম বৈশ্বিক কোম্পানি বোয়িং কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । সংস্থাটি প্রফেশনাল অ্যারোস্পেস লেবার ইউনিয়নের ৪০০ জনেরও বেশি সদস্যকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাঠিয়েছে।

সিয়াটল টাইমসের বরাত দিয়ে আজ রোববার (১৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

সিয়াটল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সোসাইটি অব প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমপ্লয়িজ ইন অ্যারোস্পেস বা এসপিইইএ’র সদস্যদের কাছে গোলাপি স্লিপগুলো পাঠানো হয়। এর ফলে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত শ্রমিকরা বেতনভুক্ত থাকবেন।

এর আগে গত অক্টোবরে বোয়িং ঘোষণা দিয়েছিল, আগামীতে ১০ শতাংশ এবং প্রায় ১৭ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। সংস্থাটির সিইও কেলি অর্টবার্গ কর্মীদের বলেন, “আমাদের আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য কর্মী স্তরগুলো পুনরায় সাজাতে হবে।”

এসপিইইএ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ৪৩৮ জন সদস্যকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ইউনিয়নের স্থানীয় শাখায় ১৭ হাজার বোয়িং কর্মী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তবে কিছু কর্মী ওরেগন, ক্যালিফোর্নিয়া ও উটাহতেও অবস্থান করছেন।

এদিকে ছাঁটাই হওয়া ৪৩৮ জন কর্মীর মধ্যে ২১৮ জন এসপিইইএর পেশাদার ইউনিটের সদস্য। এর মধ্যে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন। বাকিরা কারিগরি ইউনিটের সদস্য। এর মধ্যে বিশ্লেষক, পরিকল্পনাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।

যোগ্য কর্মীরা ক্যারিয়ার ট্রানজিশন সেবার পাশাপাশি তিন মাস পর্যন্ত ভর্তুকিসহ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন। কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজ হিসেবে প্রতি বছরের পরিষেবার জন্য প্রায় এক সপ্তাহের বেতন পাবেন।

সম্প্রতি বেশ কিছু দিন আগে মার্কিন এই সংস্থাটির ৩৩ হাজার কর্মী ধর্মঘট করেছিলেন। যার জেরে বাণিজ্যিক বিমানের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বোয়িংয়ের ইউনিয়নভুক্ত মেশিনিস্টরা ধর্মঘটের পরে এই মাসের শুরুতে কাজে ফিরতে শুরু করেছিলেন।

কর্মীদের এই ধর্মঘট বোয়িংয়ের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যার জেরে বোয়িং সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বজুড়ে এবার ১৭ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে বোয়িং।

বিমান নির্মাণকারী এই সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া। আর যারা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত, তারা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কাজে বহাল থাকবেন। মূলত আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির নতুন সিইও কেলি অর্টবার্গ আসার পর উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।

বোয়িংয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত মডেলটি হলো বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। এই মডেলটির উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

Read Previous

হারুনের রিসোর্টে শিয়াল-কুকুরের দখল

Read Next

বগুড়ায় নবান্নের মেলায় মাছ কিনতে জামাইদের প্রতিযোগিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular