
স্টাফ রিপোর্টার | পর্যটন সংবাদ: জ্যাম, মিটিং, সময়ের পেছনে ছুটে চলা—নিত্যদিনের এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনের মাঝেও কেউ কেউ মনের ভেতরের শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখেন। তেমনই একজন রোকসানা সিদ্দিকা তাপসী। পেশায় একজন কর্পোরেট কর্মকর্তা, কাজ করেন ঢাকার এক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। দিনভর কাজের চাপ, সময়ের পেছনে দৌড়—তবুও তিনি থেমে যান ঝুম বৃষ্টির আহ্বানে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে দেখা মেলে তাপসীর। গায়ে নীল-সাদা প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজ, হাতে ছাতা থাকলেও ছাতাটি ছিল বন্ধ। কারণ, তাঁর চোখে-মুখে তখন ছিল বৃষ্টিতে ভেজার অনাবিল আনন্দ।
“বৃষ্টি মানেই আমার ছোটবেলার মাঠে দৌড়ানোর দিনগুলো ফিরে আসে। এই শহরে সব কিছুই যান্ত্রিক, কিন্তু বৃষ্টি যেন বলে—’একটু থামো, একটু অনুভব করো’,” বলছিলেন তাপসী, এক কাপ ধোঁয়া উঠা চায়ের চুমুকে।

রিকশায় বসে তিনি ছুটে চলেছিলেন মগবাজারের দিকে। মাথার ওপরে ছাতা ছিল না, বরং কাঁধের ঝোলা ব্যাগটা একটু পাশ করে দিয়ে বৃষ্টির জলটাকে ভালো করে টের নিতে চাইছিলেন। একসময়ে তিনি থামলেন ফার্মগেটের এক টং দোকানে। দোকানির কাছে চাইলেন এক কাপ কড়া করে দুধ চা।
বৃষ্টির মধ্যে চায়ের এমন স্বাদ—এ যেন এক ধরনের শহুরে পর্যটন, নিজ শহরেরই অন্যরকম এক আবিষ্কার!
“অনেকেই হয়তো ভাবেন আমি পাগল, এই ভিজে জামা-কাপড়ে অফিস থেকে বের হয়ে এমন চা আর রিকশা যাত্রা! কিন্তু আমি বলব, জীবনের আসল রোমাঞ্চ তো এখানেই,” তাপসীর মুখে ছিল এক প্রশান্ত হাসি।
তাঁর মতো মানুষরা যেন প্রতিদিনকার ক্লান্ত শহরজীবনের মধ্যেও এক টুকরো প্রাণ জুগিয়ে দেন। তাঁরা বৃষ্টি মানে শুধু ট্রাফিক জ্যাম বা কাদা-জল নয়, বরং হৃদয়ের কিছু নরম অনুভূতির নাম বলে মনে করেন।
‘পর্যটন সংবাদ’ বৃষ্টিকে শুধুই প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ নয়, বরং এক ধরনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন হিসেবেই দেখে। শহরের চেনা পথে নিজের অচেনা অনুভব খুঁজে পাওয়ার এই যাত্রা আমাদের নতুন করে ভাবায়, বুঝায়—জীবন কখনো কখনো রিকশার ছেঁউপড়া বৃষ্টিতেই সবচেয়ে বেশি রোমান্টিক হয়।



