
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জড়ো হন। কারও হাতে লাল-সবুজের পতাকা, কারও হাতে ফুল, কারও চোখে আবেগ আর গর্বের অশ্রু। একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদী।
সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা একে একে এসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এই দিনে সবাই যেন ইতিহাসের কাছে মাথা নত করতে এক কাতারে দাঁড়ান।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই সন্তানদের হাত ধরে নিয়ে এসেছেন, যেন নতুন প্রজন্ম নিজের চোখে দেখে ইতিহাসের সেই পবিত্র স্মারক। কেউ কেউ স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রার্থনা করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাচ্ছেন। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল এক ধরনের গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের আবরণ।
মানিকগঞ্জ থেকে পরিবারের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে আসা কলেজ শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, তবে বই আর গল্পের মাধ্যমে সেই ইতিহাস জেনেছেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে শহীদদের উদ্দেশ্যে ফুল দেওয়াটা তার জন্য বিশেষ অনুভূতির। তার ভাষায়, আজ এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে, এই স্বাধীনতা কত বড় ত্যাগের ফল।
রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি নিয়মিতই বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে আসেন। তার কাছে এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দায়িত্ব। যাদের আত্মত্যাগে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের স্মরণ না করলে বিজয়ের অর্থই অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে মনে করেন তিনি।
একই অনুভূতির কথা জানান স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই দিনটি আমাদের আত্মপরিচয়ের দিন, গৌরবের দিন। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্মৃতিসৌধে এসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তার মতে, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে স্মৃতিসৌধের মতো জায়গার গুরুত্ব অপরিসীম।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস ও গাড়িতে করে মানুষ স্মৃতিসৌধ এলাকায় পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন হয়। সার্বিকভাবে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশেই পালিত হয় বিজয় দিবসের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, স্বাধীনতার চেতনা এখনও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। সময় বদলালেও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা আর দায়িত্ববোধ আজও অটুট। বিজয় দিবস তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি জাতির স্মৃতি, আত্মমর্যাদা আর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।
প্রতিবেদক : রেদোয়ান মুস্তাকিম



