
পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক: বাংলাদেশে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইটি ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে বিচারহীনতা, রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা ও সামাজিক সহনশীলতার অভাব প্রকটভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
গত শুক্রবার কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর মঙ্গলবার ভোলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আরেকটি অভিযোগ নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়।
ভোলার ঘটনায় নির্যাতিত নারী জানান, তার স্বামীকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টার একপর্যায়ে তাকেও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। “আমি দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি। আমি বেঁচে থাকতে চাইনি,” বলেন ওই নারী।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ-এর কনভেনর লাকী বাছাড় বলেন, “এই ঘটনাগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের নিরাপত্তাহীনতার গভীর সংকেত দিচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।”
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৪১টি, যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় বেশি। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, গত ১১ মাসে ৭৮০টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, “আমরা এতদিন ধরে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ধর্ষণকারীরা শক্তিশালী হলে, অনেক সময় মিডিয়াও খবর প্রকাশ করতে পারে না।”
নারীর প্রতি সহিংসতার বর্তমান চিত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যেন নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বরং মব মানসিকতা ও কট্টর দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের কোণঠাসা করছে।”
সাম্প্রতিক ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোলার ঘটনায় বিএনপির ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কুমিল্লা ও ভোলার ঘটনায় অভিযুক্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সরকার পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের বক্তব্য এখনো অনুপস্থিত।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এখন সময় এসেছে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ রোধে একটি সম্মিলিত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার। না হলে এই ভয়াবহ সহিংসতা আরও বিস্তৃত হবে এবং নারীদের স্বাধীন চলাফেরার অধিকার প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হবে।



