
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্লট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে। মামলাটি নিয়ে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে কারণ এটি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে চলমান ছয়টি দুর্নীতি মামলার মধ্যে প্রথম রায়।
মামলার প্রেক্ষাপট
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এই ধারাবাহিকতায় দুদক রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়ম করে প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য মোট ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ নেন।
এই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
তবে আজ যে মামলার রায় ঘোষণা হবে তা মূলত রাজউকের ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিয়ে করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে। দুদকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থেকে শেখ হাসিনা আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি বরাদ্দ নেন এবং এই প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।
বিচার প্রক্রিয়া ও পলাতক আসামিরা
অভিযুক্ত শেখ হাসিনাসহ বেশিরভাগ আসামির বিরুদ্ধে সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও তাদের আদালতে পাওয়া যায়নি। এর ফলে পলাতক অবস্থায়ই তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আদালতে হাজির ছিলেন শুধু একজন আসামি—রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
বাকি আসামিদের অনুপস্থিতির কারণে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি, আর তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীও যুক্তিতর্কে অংশ নিতে পারেননি। গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর বিচারক আজকের রায়ের দিন ঘোষণা করেন।
দুদকের অবস্থান
দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান মো. মঈনুল হাসান মনে করেন, দেশের শীর্ষ পদে থেকে নীতিমালা ভঙ্গ ও মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তার ভাষায়, “একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিথ্যা তথ্য প্রত্যাশিত নয়। তাই সাজা গুরুতর হতে পারে।”
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, এসব মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ দুদকের জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি। তিনি মনে করেন, এই মামলার রায় দুর্নীতি দমন কমিশনের পাশাপাশি রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আসামিদের তালিকা
হাসিনা পরিবারের সদস্য ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
- সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ
- প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা
- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও চারজন সাবেক সদস্য
- এস্টেট ও ভূমি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা
সব মিলিয়ে মামলার মোট আসামি ২৩ জন, কিন্তু তাদের মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন শুধুমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
আজকের রায়ের গুরুত্ব
এটি কেবল একটি মামলার রায় নয়—গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রায়ের একটি। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি প্রথম দুর্নীতি মামলার রায়।
এদিকে রেহানা পরিবারের তিনটি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং এসব মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। দুই পরিবারের মোট ছয়টি মামলার বিচার চলছে আলাদা আদালতে।
আজকের রায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।



