
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাঠমান্ডুগামী একটি ফ্লাইটে বোমা থাকার ভুয়া তথ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয় চরম আতঙ্ক। তবে তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এক নারীর ইচ্ছা ছিল ছেলেকে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে নেপাল যাওয়া থেকে বিরত রাখা। সেই উদ্দেশ্যেই এ বোমাতঙ্ক ছড়ানো হয় বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিজি-৩৭৩ নম্বর ফ্লাইটটি নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটিতে তখন ১৪২ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময় বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে—যেখানে দাবি করা হয়, উড়োজাহাজটিতে বোমা রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হতেই বিমানবাহিনীর টাস্ক ফোর্স, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), বিমান বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, এপিবিএনের ডগ স্কোয়াড এবং র্যাবের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার নিবিড় তল্লাশির পর কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তল্লাশি শেষে রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিহিংসা
র্যাব জানায়, ইমন নামের এক ব্যক্তি তার পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ইমনের মা ও স্ত্রী একসঙ্গে চেষ্টা করেন তাকে আটকে দিতে। কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে ইমনের বন্ধু ইমরানের পরামর্শে তার মা বিমানবন্দরে ফোন দিয়ে বোমার মিথ্যা তথ্য দেন। উদ্দেশ্য ছিল, ফ্লাইট স্থগিত করে যাত্রা থামানো।
র্যাব ডিজি একেএম শহিদুর রহমান বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তি ও জাতীয় এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। ভবিষ্যতে কেউ এমন চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পর্যটনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনার ফলে দেশের পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে, যা পর্যটন খাতের জন্য হুমকি।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবসময়ই যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য দিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং আইনি কঠোরতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।



