
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা হতে যাচ্ছে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার মেয়ে, যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক। দীর্ঘ তদন্ত, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর জনমতের চাপের মধ্যে আজকের রায়কে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মামলাটি বিচার করছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ১৩ জানুয়ারি মামলাটি করে, যেখানে মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো এবং প্রক্রিয়াগত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্র কোথায়
দুদকের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে শেখ রেহানা, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিবের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ হয়। যদিও এই মামলায় শুধুমাত্র শেখ রেহানার প্লট পাওয়ার বিষয়টিই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণেই আজমিনা ও রাদওয়ানের নাম এই মামলার আসামির তালিকায় নেই, তবে দুদক আলাদা দুই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় এবং তার পরপরই দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় টিউলিপ সিদ্দিকের নামও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশে তদন্ত শুরুর পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ে তাঁর দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জানুয়ারি তিনি অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
আর কে কে আছেন আসামি তালিকায়
শুধু রাজনৈতিক পরিবার নয়, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে থাকা আরও ১৪ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী, রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এক আসামি—মোহাম্মদ খুরশীদ আলম—বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকিরা হয় জামিনে, নয়তো দেশের বাইরে অবস্থান করায় আলাদা আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
আজকের রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ
গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আছে। এই মামলার রায় সেই পুরো আলোচনার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ মামলার শীর্ষ তিন আসামি দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে কখনো সরাসরি এ ধরনের অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায়নি।
এ মামলার ফলাফলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কতটা জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব—তা অনেকটাই পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কি অপেক্ষা করছে সামনে
আজকের রায় ঘোষণার পর যদি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অর্থদণ্ড, এমনকি সম্পদ পুনরুদ্ধারের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে পুরো মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ মামলার রায় দেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিতে যাচ্ছে। গণমানুষের নজর এখন আদালতের দিকে, যেখানে কয়েক বছরের বিতর্কিত তদন্তের শেষ বাঁকটি আজ নির্ধারিত হচ্ছে।



