
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্যও সমৃদ্ধ। জেলার আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত মহারাজার দীঘি স্থানীয় পর্যটন ও ঐতিহ্যের অন্যতম অনন্য আকর্ষণ। প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা এই দীঘিটি একসময় মহারাজা পৃথু খনন করেছিলেন বলে স্থানীয় কিংবদন্তি রয়েছে।
দীঘিটির আয়তন বিশাল—চারপাশে পাকা ঘাট, সবুজ গাছপালা আর পাখির কূজন মিলে এটি পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক এক শান্তির ঠিকানা। সারা বছর স্থানীয় ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসেন, তবে শীত মৌসুমে ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়।
স্থানীয়দের মতে, মহারাজার দীঘি শুধু পানির আধার নয়, এটি ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। আশেপাশের এলাকাজুড়ে এখনো পাওয়া যায় প্রাচীন স্থাপনার ভগ্নাংশ, যা প্রমাণ করে এখানে একসময় রাজকীয় বসতি ছিল।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের সুবিধার্থে দীঘির চারপাশে বেঞ্চ, হাঁটার পথ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকাটি “হেরিটেজ ট্যুরিজম স্পট” হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে মহারাজার দীঘি যেতে প্রথমে পঞ্চগড় সদর, সেখান থেকে সড়ক পথে আটোয়ারী উপজেলা—যাত্রাপথ জুড়ে দেখা মিলবে সমতল চা বাগান ও সবুজ ফসলের মাঠের মনোরম দৃশ্য।
ভ্রমণ পরামর্শ:
- শীতকালে সকাল বা বিকেলে ভ্রমণ সবচেয়ে উপভোগ্য
- দীঘির পাশে বসে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ
- আশেপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখতে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করুন
পঞ্চগড়ের মহারাজার দীঘি নিছক একটি জলাধার নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়। একবার যারা এখানে আসেন, তারা মুগ্ধ হয়ে ফেরেন এবং মনে মনে আবার আসার পরিকল্পনা করেন।



