
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে স্থানীয় জনজীবনে ভোগান্তি নেমে আসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ায় মেঘনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জোয়ারের সঙ্গে বাতাসের দমকা আঘাত আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বীপাঞ্চলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষরাও বিপাকে পড়েছেন। বাজারেও নেই আগের মতো ভিড়, অধিকাংশ মানুষ ঘরে অবস্থান করছেন।
হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন জানান, সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলারগুলো ঘাটে আটকে আছে। বাজারেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঝড়ো হাওয়ায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, দোকানপাটও ক্রেতাশূন্য।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী এক থেকে দুই দিন এ পরিস্থিতি চলতে পারে। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হলে নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে আরও প্রভাব ফেলবে।



