২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকের আবেদনে র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন অর রশীদ ও পরিবারের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

র‍্যাবের ডিজি হারুন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী ফাতেহা পারভীন লুনা ও দুই কন্যা ফাহমিদা ফারাহ ফাবিয়া এবং নুসরাত যারীন আর্দিতার বিদেশ গমন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। এই অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।

দুদকের দাবি, অনুসন্ধান চলাকালে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত হারুন অর রশীদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দেশের ভেতরে অবস্থান করলেও তারা যে কোনো সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বিদেশ গমন ঠেকানো না গেলে তদন্ত প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিদেশে পালানোর আশঙ্কা থাকায় তাদের সাময়িকভাবে দেশের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও কমিশন গ্রহণ, বিদেশে সম্পদ ক্রয় এবং অর্থ পাচার। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

একজন দুদক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখনো প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্যায়ে আছি। অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছাড়লে প্রমাণ সংগ্রহ জটিল হয়ে পড়বে, তাই আদালতের মাধ্যমে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।”

হারুন অর রশীদ দীর্ঘ সময় পুলিশ ও র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২২ সালের শেষ দিকে র‍্যাবের ডিজি পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। দায়িত্বকালীন সময়েই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তখন তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

দুদক বলছে, তাদের তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।

আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত হারুন অর রশীদ ও তার পরিবারের চার সদস্য দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

দুর্নীতির অভিযোগে শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে—যা ভবিষ্যতে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

Read Previous

পল্টনে গণভোটের দাবিতে আট দলের বিক্ষোভ, প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি আজ

Read Next

বাংলাদেশ-তিমুর লেস্তে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular