
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘদিনের সীমান্তবিরোধ অবসানে আজ রোববার শান্তিচুক্তির একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। দুই দেশের মধ্যে শত বছরের পুরোনো এই বিরোধে শত্রুতা বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে, যেখানে আজ শুরু হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ান-এর ৪৭তম শীর্ষ সম্মেলন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন আসিয়ান সভাপতি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সীমান্তবিরোধের ইতিহাস
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রায় ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে বিরোধের সূত্র ১৯০৭ সালে, যখন ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসকেরা সীমারেখা নির্ধারণ করেন। থাইল্যান্ড সেই মানচিত্রে আপত্তি জানায়, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গেলেও সমাধান হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে এই বিরোধে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ সংঘাত, গত জুলাই মাসে, ছিল গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
শান্তির পথে অগ্রগতি
গত ২৪ জুলাই সীমান্তে নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মালয়েশিয়া মধ্যস্থতা করে। ২৮ জুলাই পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের নেতাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন, যা পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করে।
আজকের এই যৌথ ঘোষণাপত্র সেই যুদ্ধবিরতির বোঝাপড়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ সীমান্ত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরিয়ে ফেলবে, এবং এলাকাটি মাইনমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, আসিয়ান একটি পর্যবেক্ষক দল গঠন করবে, যারা সীমান্ত পরিস্থিতি নজরে রাখবে।
আসিয়ানের বড় অর্জন
বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া শান্তিচুক্তি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো আসিয়ানের জন্যও একটি বড় কূটনৈতিক জয়। এর ফলে সম্ভাব্য বড় কোনো সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমে এসেছে এবং সীমান্ত অঞ্চলের হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে।
চুক্তিটি এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথই হতে পারে ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি।



