তিয়ানজিনে তেলকেন্দ্রিক নতুন সমীকরণ: ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়া, চীন ও ভারত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে এক টেবিলে বসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দিনের এই সম্মেলন শুধু আঞ্চলিক ঐক্যের প্রতীক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক শক্তির নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় চাপে পড়ে রাশিয়া। একঘরে হয়ে পড়া মস্কো আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেলের দাম কমিয়ে দেয়। এতে সুযোগ নেয় ভারত ও চীন। সস্তা দামে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল কিনে দুই দেশ নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এখন সম্পর্ক আর শুধু তেলকেন্দ্রিক নয়, কৌশলগত বন্ধুত্বে রূপ নিচ্ছে।

চীন গত বছর রাশিয়া থেকে ১০ কোটিরও বেশি টন ক্রুড অয়েল আমদানি করেছে, যা তাদের মোট আমদানির ২০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, ভারত ২০২২ সালের পর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। রুশ তেল রফতানির পরিমাণ সে বছর প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

রাশিয়ার জাতীয় বাজেটের বড় অংশ আসে তেল-গ্যাস রফতানি থেকে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালাতে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ভারত ও চীনের বাজার এখন মস্কোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা না করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক, চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি—সব মিলিয়ে তিন দেশ আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা জ্বালানি কিনবে সেখান থেকেই, যেখানে সেরা দাম পাওয়া যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও ভারতের জন্য লাভজনক। এতে মোদির অভ্যন্তরীণ অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একইভাবে চীনও রাশিয়ার সঙ্গে গ্যাস চুক্তি করে সম্পর্ক গভীর করেছে।

এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, শুল্কনীতি ও নিষেধাজ্ঞা তিন দেশকে একে অপরের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে বহুধ্রুব বিশ্বব্যবস্থার কথা বলে আসছে, আর এখন রাশিয়া ও ভারত সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়ে উঠছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আর জ্বালানির ভূ-রাজনীতি মিলে রাশিয়া, চীন ও ভারতের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক নতুন কৌশলগত বলয়। অতীতের মতবিরোধ পেছনে ফেলে এখন তারা এক অভিন্ন মঞ্চে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Read Previous

পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত: পর্যটকদের জন্য এক স্বপ্নের প্রকৃতি অভিজ্ঞতা

Read Next

দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular