
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চার্জশিটে গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অভিযোগে নাম আসার পর সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে ঢাকায় সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন এখনও কর্মরত এবং একজন এলপিআরে আছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের মেসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চার্জশিটে মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম এসেছে। তাদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরে ১ জন এবং বাকিরা কর্মরত। সেনাবাহিনী আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সংবেদনশীল এই মামলার ঘটনায় নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হেফাজতে আসার নির্দেশ দেয় এবং ১৬ জনকে ডাকা হলে ১৫ জন সাড়া দেন।
একজন কর্মকর্তা নিখোঁজ হেফাজতে না আসা একজন কর্মকর্তা — মেজর জেনারেল কবির — সম্পর্কে জানিয়ে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিবার বা কর্তৃপক্ষ কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তাকে এখন ‘ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সীমান্ত ও বন্দর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হেফাজতে নেওয়ার কারণ ও সেনাবাহিনীর অবস্থান সেনাবাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সংবেদনশীল মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টদের হেফাজতে রেখে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে কোর্ট-মার্শালসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাইনি, তবু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা নিয়েছি।”
বিচার কোন আইনে হবে, সে প্রসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সেনা আইন নাকি আইসিটি আইনে বিচার হবে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আইনের ব্যাখ্যা জানতে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব। কেউ খালাস পেলে তার সার্ভিসে ফিরে আসা–নিয়েও পরিষ্কার সমাধান প্রয়োজন।”
নির্বাচন ও সেনা সদস্যদের মনোবল আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্যে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনা বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলেছে। তবে সেনাবাহিনী ন্যায়ের পক্ষে অটল থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং ২২ অক্টোবর তাদের হাজির করার নির্দেশ দেয়।



