টেকনাফে পাহাড় ধসের আশঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন বিপদাপন্ন পরিবারগুলো

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: টানা বৃষ্টিপাতে টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা জনপদগুলোতে আবারও দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কা। বিশেষ করে পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী শত শত পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই দুর্যোগের মুখে পরিবার নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন গৃহবধূ সমজিদা বেগম। তিনি জানান, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই। জমানো কোনও টাকা নেই। ফলে নিরাপদ জায়গায় ঘর করাও সম্ভব হয়নি। বর্ষা আসলেই দৌঁড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসি, আবার বৃষ্টি থামলে পাহাড়ে ফিরে যাই। এভাবেই ২০ বছর ধরে বর্ষায় দুর্ভোগের জীবন পার করছি।”

সমজিদার মতো মোস্তফা খাতুনও চার মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে এসেছেন মায়মুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি জানান, “যদি রাতে এখানে না আসতাম, বাঁচতাম কিনা জানি না। সকালে শুনি, আমার ঘর পাহাড় ধসে ভেঙে গেছে।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে আনতে মাইকিং চালানো হচ্ছে।

টেকনাফের পুরাতন পল্লান পাড়ার সিপিপি লিডার কুলসুমা আক্তার জানান, “দেড়শর বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু এখন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। আমরা আরও পরিবারকে সরানোর চেষ্টা করছি।”

তবে অনেকেই এখনও পাহাড় ছাড়তে চান না। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, “ছাগল, হাঁস-মুরগির চিন্তায় এখনও বাড়ি ছাড়িনি। তবে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, মনে হচ্ছে এবার আর থাকা যাবে না।”

এছাড়া পাহাড়বাসী আবু ছৈয়দ বলেন, “প্রতি বছর বর্ষায় যাওয়া-আসা কষ্টকর। সরকার যদি নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, তাহলে কেউ পাহাড়ে থাকবে না।”

স্থানীয়দের মতে, বন বিভাগের নজরদারির অভাবে অনেকেই রোহিঙ্গা ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পাহাড় কেটে বসতি গড়েছেন, যা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় ১৫ টন ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৪ জুন টানা বর্ষণে টেকনাফে পাহাড় ধসে প্রাণ হারান ৩৩ জন। উখিয়ায়ও ২০১০ ও ২০১২ সালে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড়ধসের এমন দুর্ভোগ পর্যটন ব্যবস্থার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা চান, নিরাপদ পুনর্বাসনের মাধ্যমে যেন এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।

প্রতিবেদন: পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি, কক্সবাজার

Read Previous

২০২৫ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান – বিশ্বভ্রমণে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত নাগরিক কারা?

Read Next

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইস্যুর পরও শেষ হয় না যাচাই প্রক্রিয়া: ঢাকার মার্কিন দূতাবাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular