
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ময়লা কোনো বস্তু দিয়ে সামান্য কেটে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন—টিটেনাসের টিকা নেবেন কি না, এ নিয়ে দোটানায় থাকেন। আবার কেউ বিনা দ্বিধায় ইনজেকশন নিয়ে নেন, কেউবা নেনই না। আসলে কখন টিটেনাসের টিকা প্রয়োজন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার।
টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার জীবাণু শরীরের ছোটখাটো ক্ষত দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। এরপর তা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে পেশি শক্ত করে ফেলে, খিঁচুনি আনে এবং চোয়াল আটকে দেয়। চিকিৎসা না পেলে এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি খুব বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ টিটেনাসে মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে এক–তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়, বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
কীভাবে বোঝা যায়
সংক্রমণের ৩ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। শুরু হয় চোয়ালে ব্যথা ও খিঁচুনি দিয়ে। ঠোঁটের চারপাশে টান পড়া, গলা ও পিঠে খিঁচুনি, গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট—এসব হলো প্রাথমিক উপসর্গ। পরে দেখা দিতে পারে উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, জ্বর ও অতিরিক্ত ঘাম।
টিকা ও বুস্টার ডোজ
টিটেনাস প্রতিরোধে মূল ভরসা টিকা। শিশুদের জন্মের পর ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিডিএপি টিকা দেওয়া হয়। এরপর প্রতি ১০ বছর পরপর একটি করে টিকা নিলে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
আঘাত পাওয়ার পর ঝুঁকি থাকলে দেওয়া হয় টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (টিআইজি), যা বুস্টার ডোজ নামে পরিচিত। অনেক সময় টিকা ও বুস্টার একসঙ্গে দেওয়া হয়।
কারা টিকা নেবেন
- কেটে বা আঘাত পেয়ে ক্ষতস্থানে ময়লা লাগলে
- পাঁচ বছরের মধ্যে টিকা না থাকলে
- গর্ভাবস্থায়, যাতে শিশুও সুরক্ষা পায়
- প্রতি ১০ বছর পরপর প্রতিরোধক টিকা হিসেবে
কেন জরুরি
গুরুতর টিটেনাসে খিঁচুনি এতটাই তীব্র হয় যে রোগী শ্বাস নিতে পারেন না, এমনকি হৃদ্যন্ত্রও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষত হলে দেরি না করে দ্রুত টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।



