টাঙ্গুয়ার হাওর: রামসার সাইটের পর্যটন যেন হুমকি, ‘অভিভাবকহীন’ বলে আদালতের উদ্বেগ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে অনন্য টাঙ্গুয়ার হাওর আজ সুরক্ষিত ব্যবস্থাপনার অভাবে ‘অভিভাবকহীন’—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের একজন বিচারক। পর্যটনের প্রভাবে পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন তাহিরপুর থানা পুলিশকে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। রোববার (২৭ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে বলা হয়, সুন্দরবনের পর সবচেয়ে সমৃদ্ধ জলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই হাওর ‘যেমন খুশি, তেমন ধ্বংস’ হচ্ছে।

আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, শতাধিক হাউসবোটের অবাধ চলাচল, পর্যটকদের অসচেতন বিচরণ, ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি অবহেলার কারণে মাছ, গাছ ও পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। ‘পরিবেশকে অগ্রাধিকার না দিলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি আরও সংকটে পড়বে,’ বলেন তিনি।

পর্যটনের সুফল নয়, সমস্যাই বেশি পাচ্ছে স্থানীয়রা

আদেশে আরও বলা হয়, পর্যটন কার্যক্রম থেকে স্থানীয়রা প্রত্যাশিত সুবিধা না পেয়ে বরং নানা সমস্যায় পড়ছেন। অপরিকল্পিত পর্যটন ও অব্যবস্থাপনার কারণে হাওরের সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে, হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।

এ অবস্থায় হাওরে হাউসবোট চলাচল ও পর্যটনের পরিবেশগত প্রভাব, মৎস্য আহরণ, পাখি ও গাছপালার হ্রাস, অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তাহিরপুর থানার ওসিকে। একইসঙ্গে তাঁকে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।

হাউসবোট নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও জরিমানা

আদেশের পরদিনই অভিযান চালিয়ে হাওরে নিবন্ধনবিহীন ১২টি পর্যটকবাহী হাউসবোটকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পর্যটক মাহাবুব আলম সোহাগ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ‘হাওরের সুলতান–৪’ নামের একটি হাউসবোটের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছেন, যার শুনানি হবে আগামী ৬ আগস্ট।

রামসার সাইটের গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা

১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আয়তনের এই হাওরে ১০৯টি বিল রয়েছে। ১৯৯৯ সালে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয় টাঙ্গুয়ার হাওরকে এবং পরের বছর এটি রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর ২০০১ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হয় এই হাওর।

তবে পর্যাপ্ত নজরদারি, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া পর্যটন এই হাওরের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং বিপর্যয় হয়ে উঠছে—এমনই মনে করছেন পরিবেশবিদ ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র।

উপস

টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক রত্ন। পর্যটনের সুষ্ঠু বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই জলাভূমি তার অস্তিত্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আদালতের এই পদক্ষেপ তাই শুধু আইনি নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার এক সময়োপযোগী আহ্বানও।


সংবাদদাতা: পর্যটন সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশকাল: ২৯ জুলাই ২০২৫


আপনার প্রয়োজন অনুসারে এই প্রতিবেদনটিতে আরও পরিবর্তন বা সংযোজন করা যেতে পারে। চাইলে সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ ভার্সনও তৈরি করে দিতে পারি।

Read Previous

ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি: ফের অস্থিরতার শঙ্কা, দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি

Read Next

টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ, তিন দিন পর শালিকচূড়া বিলে মিলল ফারিয়া তাসনিমের মরদেহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular