চিকিৎসা ভ্রমন ও শপিংয়ে পছন্দের শীর্ষে এখন থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড যেনো এখন বাংলাদেশিদের কাছে ভারত। আগে এদেশের মানুষ কথায় কথায় ভারত যেতে হোক সেটা চিকিৎসা,শপিং বা ভ্রমনের জন্য। এখন একি কাজে যাচ্ছে থাইল্যান্ডে।

বাংলাদেশ থেকে স্বল্প দূরত্ব এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে বিমান টিকিট সহজলভ্য হওয়াতে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে এখন প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। এর আগে দেশের বাইরে চিকিৎসা, ভ্রমণ ও কেনাকাটার জন্য পাশের দেশ ভারতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাংলাদেশি যেতেন। বর্তমানে ভারতের ভিসা জটিলতার কারণে এখন বাংলাদেশিদের নতুন গন্তব্য থাইল্যান্ড। সম্প্রতি থাই ই-ভিসা সুবিধা চালু হওয়ায় এবার ঈদের আগে ও পরে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ থেকে নিজেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিয়ে ভিসা পেয়েছেন। তবে ভিসা ফি জমার ক্ষেত্রে অনেকে আবার ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

এতে ট্যুর এজেন্সির কাছে যাওয়ার বিড়ম্বনাও আর পোহাতে হয়নি। একজন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সাথে কথা হলে জানান তার
হৃদপিণ্ডে রিং পরানো হয়েছে গত বছর। দেশের চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি বিদেশি চিকিৎসকদের কাছে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে নিতে চাইছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ভিসা পেতে সমস্যার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড চেকআপ করাতে যান।

গত ৭ এপ্রিল বিপিকে নাইন ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালে তিনি তিনজন থাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেন। ব্যাংককে অবস্থানকালীন বলেন, ‘ভারতে যাওয়া সুবিধাজনক হলেও ভিসা জটিলতার কারণে আমি ব্যাংককে চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখানকার চিকিৎসকরা খুব ধৈর্য নিয়ে আমার কথা শুনেছেন এবং সময় নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। আমি প্রথমে ৯ হাজার বাথ (বাংলাদেশি প্রায় ৩৩ হাজার টাকা) দিয়ে একটি মেডিকেল প্যাকেজ নিতে চাইলাম।

চিকিৎসকরা আমাকে জানান, এত বড় প্যাকেজ না নিলেও চলবে। তারা শুধু প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করান। যাতে খরচ হয় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ হাজার টাকা। এখানে চিকিৎসা করিয়ে গুণগত মান দিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট।  বাংলাদেশ থেকে এ সময় আরও অনেকে ব্যাংককের রুয়ামজাইরাক হাসপাতাল, বামরুনগ্রাদসহ অন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে দেখা যায়।
এদের অনেকেই হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন চেকআপ প্রোগ্রামের প্যাকেজ সেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া পরিবার নিয়ে অনেকেই ফুল বডি চেকাপ প্যাকেজ সেবাও নিয়েছেন কেউ কেউ।

এদিকে, ছুটি কাটাতে বা নিজেদের কিছু সময়কে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে অনেকেই এখন উড়ে যাচ্ছেন থাইল্যান্ডের ফুকেট ও পাতায়ায়। পাতায়ার কোরাল আইল্যান্ডের স্বচ্ছ নীল-সবুজ সাগরে প্রিয়জনকে নিয়ে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি।

৯ এপ্রিল এক দম্পতির সাথে কথা হলে তারা জানায় ঢাকা থেকে এসেছেন তারা। এই নবদম্পতি পর্যটন সংবাদকে জানায় ‘প্রথমে তাদের ভারতের কাশ্মীরে মধু চন্দ্রিমা করার ইচ্ছে থাকলেও ভিসা বন্ধ থাকার কারনে তারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের মধু চন্দ্রিমা করবে থাইল্যান্ড। এখানে আসতে পেরে তাদের অনেক বেশি ভালো লাগছে। ’ পাতায়ায় অনেক বাংলাদেশিদের প্যারাসেইলিং ও আন্ডারওয়াটার অ্যাক্টিভিটিও করতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক, ব্যাগ ও জুতাসহ বিভিন্ন প্রসাধনী কেনাকাটার জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণার্থীদের কাছে থাইল্যান্ড হচ্ছে আদর্শ স্থান।

ব্যাংকক শহরের চোখ ধাঁধানো শপিংমল আইকনসিয়াম, টার্মিনাল-২১ ছাড়াও মাঝারি বাজেটের শপিং মল ইন্দ্রা মার্কেট, প্লাটিনাম,প্লাতুনাম, চাতুচাক মার্কেটের বিশাল সংগ্রহে জামাকাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ছড়াছড়ি। ঢাকার খিলগাঁও এর ইসলাম রাইসুল একজন ভ্রমন প্রেমি মানুষ । তিনি পর্যটন সংবাদকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডে এসে এবার একটা মনের মতো ট্রাভেল ব্যাগ কিনেছি। এ ছাড়া ভ্রমণ উপযোগী বেশ কিছু সামগ্রী কিনেছি। থাইল্যান্ড আসলে শপিংপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। ’

Read Previous

১ মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা তিন মাসের জন্য

Read Next

শুক্রবার ১৪ ঘণ্টা ঢাকার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular