
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩৯ বছর পর মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে নতুন আলোচনার মুখে পড়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত নতুন হার অনুযায়ী বন্দরের সেবায় গড়ে ৪১ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডারদের আপত্তির কারণে মন্ত্রণালয় আবারও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বন্দরের কর্মকর্তা এবং আমদানি-রপ্তানিকারীদের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এটি প্রথম বড় মাশুল বৃদ্ধি। তবে, নতুন হার কার্যকর হলেও আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল এখনও অনেক কম থাকবে।
প্রস্তাবিত নতুন মাশুলের আওতায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হবে কনটেইনার পরিবহনে। প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারের জন্য গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা মাশুল প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন হার কার্যকর হলে আমদানি কনটেইনারে গড়ে ৫ হাজার ৭২০ টাকা, আর রপ্তানি কনটেইনারে গড়ে ৩ হাজার ৪৫ টাকা বাড়বে। সব মিলিয়ে কনটেইনার প্রতি গড়ে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা মাশুল দিতে হতে পারে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্দর মাশুল ৪১ শতাংশ বাড়ানো হলে রপ্তানিকারীরা দুই দিকে চাপে পড়বেন। এতে তাদের সক্ষমতা কমতে পারে।”
পর্যটক এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি না থাকলেও, বন্দর থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যগুলোর খরচ বৃদ্ধি হতে পারে। যার প্রভাব পর্যটকরা হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় বাজারের দামেও দেখতে পারেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য, এই আলোচনায় চোখ রাখাটাই এখন জরুরি।



