
ভ্রমণ করতে কার না মন চায়। আমাদের দেশে অধিকাংশ ভ্রমণপিয়াসু শীতের মৌসুমকে ভ্রমণের জন্য বেছে নেন। তবে চাইলে সারা বছরই ঘুরা যায়। সেটি নির্ভর করবে ভ্রমণের স্থানের ওপর।
প্রায় সব ভ্রমণপিয়াসুই চান কম খরচে সবচেয়ে বেশি জায়গা ঘোরার। কিন্তু তারা অনেক ভেবে চিন্তেও ভ্রমণের খরচ কমাতে পারেন না। এ প্রতিবেদনে কিভাবে ভ্রমণের খরচ কমাবেন তা নিয়েই জানানো হবে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
আগেই পরিকল্পনা করে নিন
কোথায় যাবেন সে বিষয়ে সবার মতামত নিন। কোথায় যেতে হবে, কীভাবে সেখানে যেতে হবে, কী কী দেখতে হবে এবং কোন কোন কাজ করতে হবে এসব ব্যাপারে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে এরপর ঘুরতে যান। এ ছাড়া সকল খরচের একটা প্রাথমিক হিসেব করে নিন। এতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় ও খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
তবে দূরে কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং ওই স্থানের সকল অবস্থার বিবেচনায় ভ্রমণের জন্য রাত্রিকালকে বেছে নেবেন। এতে হোটেল খরচ অনেকটা কমে যাবে।
পিক সিজন এড়িয়ে চলুন
পিক সিজন হলো বছরের এমন সময়, যখন ভ্রমণের খরচ থাকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে শীতের সময় পাহাড় বা সমুদ্রসৈকতে মানুষের ভিড় থাকে প্রচুর। যে কারণে সেখানকার হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই সাধারণ কোনো পণ্যও বিক্রি হয় অতি উচ্চমূল্যে।
তাই সম্ভব হলে অফ-সিজনে ভ্রমণের চেষ্টা করুন, তখন হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই পণ্যের দাম বেশ কম থাকে। ভিড় এড়ানো কিংবা অর্থ সঞ্চয়—দুই ক্ষেত্রেই বেশ উপকারী অফ-সিজনে ভ্রমণ। এ ছাড়া সপ্তাহের শেষদিকেও ভ্রমণ না করার চেষ্টা করবেন।
বাজেটবান্ধব হোটেল খুঁজুন
ব্যয়বহুল হোটেলে থাকার বদলে এমন কোনো জায়গা খুঁজে বের করুন, যেখানে কম খরচে সেরা সুবিধা পাবেন। পাঁচ তারকা হোটেলের বিলাসিতা ছেড়ে সাশ্রয়ী কোনো হোটেলে সেরা সেবা পাওয়া গেলে লুফে নিন। চেষ্টা করবেন রুম শেয়ার করে থাকার। এতে সবারই খরচ কম পড়বে।
গণপরিবহন ব্যবহার করুন
দেশ কিংবা দেশের বাইরে, ভ্রমণের জন্য যেখানেই যান না কেন, ট্যাক্সি কিংবা ভাড়া করা গাড়ি সব জায়গাতেই ব্যয়বহুল। বরং সেই শহরের বাস, ট্রেন কিংবা পাতালরেলের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করুন। এতে যেমন ভ্রমণ খরচ কমবে, তেমনই শহরের সৌন্দর্য ও স্থানীয় মানুষজনের জীবন আরো কাছ থেকে উপভোগ করতে পারবেন।
ডিসকাউন্টের সুবিধা নিন
বিভিন্ন ট্রাভেল ওয়েবসাইটে নিয়মিতই বড়সড় ছাড়ের অফার পাওয়া যায়। বিশেষ করে অফ সিজনে যখন ভ্রমণার্থীর বেশ অভাব থাকে। সেসবের দিকে নজর রাখুন। শুধু তা–ই নয়, হোটেল ও অন্যান্য ভ্রমণ সংস্থাগুলোর দিকেও নিয়মিত নজর রাখুন। কারণ, যেকোনো সময় বিশাল ছাড়ের অফার আসতে পারে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করবেন না।
ঘোরার প্যাকেজ নিতে পারেন
ট্রাভেল কম্পানিগুলোর বিভিন্ন প্যাকেজ থাকে। ফ্লাইট, থাকার জায়গা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের খরচ প্যাকেজের সঙ্গেই যুক্ত থাকে বলে অর্থ সাশ্রয় হয়। এ প্যাকেজগুলোতে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফার অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার ফলে আলাদা আলাদা বুকিংয়ের খরচ সাশ্রয় হয়।
বিনামূল্যে কী করা যায় তা জেনে নেওয়া
গন্তব্য যা-ই হোক,অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক বিনামূল্যে বা কম খরচে করার মতো কিছু কার্যক্রম থাকে। যেমন যাদুঘরে যাওয়া বা স্থানীয় পার্ক পরিদর্শন করা। যাওয়ার আগে এগুলো নিয়ে জানার চেষ্টা করুন এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ সাশ্রয় করুন।
স্থানীয় খাবার খান
ভ্রমণে খাওয়ার পেছনে বেশ খরচ হয়। তবে স্থানীয় খাবার অর্থ সাশ্রয়ে সাহায্য করবে। এ ছাড়া যেখানে ভ্রমণ করছেন সেখানকার সংস্কৃতিকেও নিজের মধ্যে কিছুটা ধারণ করার প্রচেষ্টা এটি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় খাবার সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি ভ্রমণকারীকে সেই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ দেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করুন
স্থানীয়দের পরামর্শ নেওয়া ভ্রমণের সময় খরচ কমানোর কার্যকরী উপায়। শহরে সাশ্রয়ী মূল্যে কোথায় থাকা যাবে, ঘোরা যাবে এবং খাওয়া যাবে তারা সে বিষয়ে ভালো জানেন। এ ছাড়া কোনো সমস্যায় পড়লেও তারা সাহায্য করতে পারেন।



