২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খান জাহান আলীর স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে থাকা ষাট গম্বুজ মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটে দাঁড়িয়ে আছে ষাট গম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্য শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস, স্থাপত্যশিল্প, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলনস্থল। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক এখানে ভিড় জমায়।

ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী

সুলতানি আমলে ১৪৫৯ সালে খান জাহান আলী এই মসজিদ নির্মাণ করেন। নাম ষাট গম্বুজ হলেও মূলত এতে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ এবং চার কোণে আরও ৪টি গম্বুজ। মসজিদের ভেতরে ৬০টি পিলার বা খুঁটি থাকায় এ নামকরণ করা হয়েছে। পুরো কাঠামো ইট, চুন ও সুরকির তৈরি। মোটা দেয়াল, প্রশস্ত বারান্দা এবং খিলানগুলো সুলতানি যুগের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

এটি শুধু নামাজের স্থান ছিল না, খান জাহান আলীর প্রশাসনিক কর্মকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। প্রতিবছর এখানে খান জাহান আলীর ওরস শরিফ উপলক্ষে হাজারো মানুষ সমবেত হয়। স্থানীয়দের কাছে মসজিদ ও মাজার ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি।

আশপাশের দর্শনীয় স্থান

মসজিদ দেখতে এলে কাছেই ঘুরে দেখা যায়—

  • খান জাহান আলীর মাজার
  • শাহী হামামখানা
  • সিঙ্গাইর মসজিদ
  • দারগা পুকুর
  • সুন্দরবনের কোলঘেঁষা প্রাকৃতিক দৃশ্য

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

মসজিদের চারপাশে সবুজ মাঠ, প্রাচীন বৃক্ষ আর খান জাহান দিঘি পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর। শীতকালে দিঘিতে হাজারো অতিথি পাখি এসে ভিড় করে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে বাগেরহাট যেতে বাস, ট্রেন বা নৌপথ ব্যবহার করা যায়।

  • বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বাসে ৬-৭ ঘণ্টায় বাগেরহাট।
  • ট্রেনে: ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনা, সেখান থেকে সড়কপথে বাগেরহাট।
  • নৌপথে: ঢাকা থেকে লঞ্চে খুলনা, তারপর বাসে বাগেরহাট।

খরচের ধারণা

  • ঢাকার বাসভাড়া: ৮০০–১২০০ টাকা (এসি/নন-এসি)
  • খুলনা থেকে বাগেরহাট: ১০০–১৫০ টাকা
  • মসজিদে প্রবেশ ফি: দেশিদের জন্য সাধারণত ফ্রি, বিদেশিদের জন্য প্রায় ২০০ টাকা
  • স্থানীয় গাইড: ৩০০–৫০০ টাকা

থাকার ব্যবস্থা

বাগেরহাট ও খুলনায় পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে।

  • সাধারণ হোটেল: ৫০০–১০০০ টাকা
  • মধ্যম মান: ১২০০–২০০০ টাকা
  • ভালো রিসোর্ট/গেস্টহাউস: ২৫০০ টাকা থেকে শুরু

অনেক ভ্রমণকারী খুলনায় রাতযাপন করে পরদিন মসজিদ দর্শনে যান।

ভ্রমণ টিপস

  • শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
  • বিকেলের দিকে গেলে সূর্যাস্তের আলোয় মসজিদের দৃশ্য অতুলনীয়।
  • স্থানীয়দের কাছ থেকে খান জাহান আলীর গল্প শুনলে ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হবে।

কম জানা কিছু তথ্য

  • মসজিদের কোনো মিনার নেই, যা সুলতানি যুগের স্থাপনায় বিরল।
  • নামের “ষাট” এসেছে ভেতরের ৬০টি দালান আকৃতির স্তম্ভ থেকে।
  • প্রায় ৬০০ বছর পুরনো ইট এখনো অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে।
  • এখানকার প্রত্ননিদর্শন বর্তমানে ঢাকা ও বাগেরহাট জাদুঘরে সংরক্ষিত।

সব মিলিয়ে, ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণ মানে শুধু একটি ঐতিহাসিক মসজিদ দেখা নয়, বরং ইতিহাস, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

Read Previous

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর থেকে রাজধানী— সারাদেশেই বৃষ্টি ঝড়ের আভাস

Read Next

নামিবিয়া ভ্রমণ: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা গাইড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular