
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের গুরুত্বপূর্ণ শৈবাল পয়েন্টে সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ার ও উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডবে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়েছে সৈকতের সৌন্দর্য ও পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবকাঠামো।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট মোটেল ‘শৈবাল’-এর পাশের এই ঐতিহ্যবাহী পয়েন্টটিতে পর্যটকদের সুবিধার্থে তৈরি ওয়াশরুম, চেঞ্জিং রুমসহ বিভিন্ন স্থাপনা সম্প্রতি নিম্নচাপজনিত জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, শৈবাল পয়েন্ট থেকে শুরু করে লাবণী ও ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ী সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বিচকর্মী ও লাইফগার্ডদের ভাষ্যমতে, কয়েক দিনের জোয়ারে উপকূলবর্তী শত শত ঝাউগাছ উপড়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে সৈকতের লকার, পুলিশ বক্সসহ অন্যান্য স্থাপনা। একসময় যেখানে আধা কিলোমিটারের মতো প্রশস্ত বালিয়াড়ী ছিল, সেখানে এখন সরাসরি সাগরের পানি উঠে যাচ্ছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও টুয়াক সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “শৈবাল থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশ অফিস পর্যন্ত অন্তত ১০-১২ গজ প্রস্থ ও দীর্ঘ অংশ জুড়ে বালিয়াড়ী সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। শত শত ঝাউগাছ সমুদ্র গিলে নিয়েছে। এতে সৈকতের সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে, পর্যটকদের বসে থাকার জায়গাও কমে এসেছে।”
স্থানীয় প্রবীণ আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বিষয়টিকে প্রকৃতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “সমুদ্রের ওপর আমরা প্রতিনিয়ত অবিচার করছি। এভাবে চলতে থাকলে কক্সবাজার সৈকত আবার ৪০ বছর আগের সংকীর্ণ আকারে ফিরে যাবে।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, “প্রতি বছরই আমরা জিও ব্যাগ বসিয়ে ক্ষয় রোধের চেষ্টা করছি। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। একটি স্থায়ী বাঁধ প্রকল্পের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কক্সবাজার সৈকতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে দ্রুত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ না নিলে এই ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।



