
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ শুধু দেশের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরই নয়, একইসঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ফ্লাইট পরিচালনার স্থানও। একটি মাত্র রানওয়েতে সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজের ওঠানামা, যা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নীতিমালার পরিপন্থী, বর্তমানে এক বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে ঢাকাবাসীকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীবাহী বিমান যদি কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তবে তার প্রভাব হবে ভয়াবহ। কারণ, এই বিমানবন্দর ঘিরেই গড়ে উঠেছে অভিজাত আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, হাসপাতাল, স্কুলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: আশঙ্কা আরও বাড়ছে
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—একই জায়গা থেকে সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ পরিচালনা আদৌ কতটা যৌক্তিক?
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “এতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো বিমান বিধ্বস্ত হলে ক্ষয়ক্ষতি হবে ভয়াবহ। তাই বহু আগেই ঢাকা থেকে বিমানবন্দর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল।”
স্থানান্তরে বাধা: রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক সংকট
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক এলাহী চৌধুরী জানান, আজ থেকে দুই দশক আগে বিমানবন্দরটি ঢাকার বাইরে আরিয়াল বিল এলাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।
সাবেক সেনা পাইলট কর্নেল মো. সোহেল রানা বলেন, “একই রানওয়ে দিয়ে সামরিক-বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনা সিভিল এভিয়েশন নিয়মের পরিপন্থী। কিন্তু অর্থ ও জমির সীমাবদ্ধতায় আমরা বাধ্য হচ্ছি একই স্থান ব্যবহারে।”
শিডিউল বিপর্যয় ও যাত্রী দুর্ভোগ
একই রানওয়ে ব্যবহারের কারণে শুধু নিরাপত্তা নয়, প্রভাব পড়ছে ফ্লাইট শিডিউলেও। বিমান ওঠানামার সময় দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণে অনেক যাত্রীকেই ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিমানে বসে থাকতে হয়।
বিকল্প কি আছে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া উচিত। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, যা অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এবং সমুদ্রের নিকটে অবস্থিত, তা হতে পারে সম্ভাব্য সমাধান।
বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করলেও, এর আশপাশের ঘনবসতি ও অবকাঠামোগত জটিলতা বিমান চলাচলে ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সামরিক ও বেসামরিক কার্যক্রমকে পৃথক করার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপদ ও কার্যকর বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



