উত্তরা ইপিজেডে ফের চালু হচ্ছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম

উত্তরা ইপিজেডে ফের চালু হচ্ছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : নীলফামারীর উত্তরা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (ইপিজেড) কয়েক সপ্তাহের উদ্বেগের পর অবশেষে শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। বন্ধ থাকা সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানাটি আবার চালু হচ্ছে। শনিবার সকালে ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার নিশ্চিত করেছেন যে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ কার্যক্রমে ফিরবে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ নভেম্বর। সেদিন প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করে, শ্রমিকরা আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়াই একত্রিত হয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেন। এতে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা শ্রমিকদের জীবিকা, পরিবার ও দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

এরপর পরিস্থিতি বদলায় শ্রমিকদের লিখিত আবেদনের মাধ্যমে। কারখানা পুনরায় চালুর জন্য শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায়। এতে প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে যে উভয় পক্ষই সমাধান চায় এবং উৎপাদন বন্ধ রাখা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া নতুন নোটিশে জানানো হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে ৩০ নভেম্বর রোববার থেকে কারখানার সব কার্যক্রম চালু থাকবে। কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের নির্ধারিত সময় ও তারিখে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার মনোভাব প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাস, সবার একসঙ্গে কাজের মাধ্যমেই দ্রুত উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারও নিশ্চিত করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারখানার দরজা আবার খুলেছে এবং রোববার থেকেই স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে মাঝে মাঝে এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়। তবে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেডের ঘটনা দেখাল যে সংলাপ, শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের বিবেচনাই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। এতে শ্রমিকরা যেমন তাদের কাজ ফিরে পাচ্ছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে।

এখন নজর থাকবে কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ কতটা শান্ত থাকে, শ্রমিকদের দাবি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়, এবং প্রতিষ্ঠান উৎপাদন টিকিয়ে রাখে কীভাবে। স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘ বিরতির পর কার্যক্রম চালু হওয়ায় এলাকার অর্থনীতিও আবার গতি পাবে।

Read Previous

ফ্লোরিয়ানোপোলিস: ব্রাজিলের সমুদ্র, সংস্কৃতি আর আধুনিক জীবনের রঙে ভরা দ্বীপনগরী

Read Next

হরিণঘাটা পর্যটনকেন্দ্র ঢলে পড়ছে অবহেলায়: সম্ভাবনার স্বর্গ এখন পর্যটকশূন্য

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular