পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রবিবারের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক মা ও তার শিশুও ছিল। এই হামলায় প্রথমবারের মতো কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া একযোগে ৮১০টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মস্কোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ধাপের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত। যদিও বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। ট্রাম্প বলেন, “পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আমি মোটেও খুশি নই।”
ওদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ প্রতিক্রিয়ায় জানান, কোনো নিষেধাজ্ঞাই রাশিয়ার অবস্থান বদলাতে পারবে না।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে সম্মত হয়, তবে রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়তে বাধ্য হবে। তখন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার টেবিলে ফিরবেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের জ্বালানি ও ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে ‘মস্কোর রাজস্ব বন্ধ করার সঠিক কৌশল’ বলে মন্তব্য করেন।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া তেল-গ্যাস বিক্রি করে প্রায় ৯৮৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রয় কমালেও ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, চীন ও ভারতের বাজার থেকে রাশিয়ার বড় অঙ্কের রাজস্ব আসছে।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে বৈঠক করে রাশিয়া চীনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ওপেক+ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি



