
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.৬। খুব অল্প সময়ের এই কম্পন অনেকেই টের পেলেও, কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কম্পন অনুভূত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। কোথাও বলা হয় বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা আছে, কোথাও আবার ছড়াতে থাকে বিভিন্ন অনিশ্চিত দাবি। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য একটাই—এই ধরনের পূর্বাভাস বিজ্ঞানসম্মত নয়; গুজবে কান না দিয়ে বরং নিয়মিত প্রস্তুত থাকা উচিত।
আতঙ্ক কেন ছড়ায়?
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে থাকায় ছোটখাটো কম্পন নতুন কিছু নয়। কিন্তু বড় একটি কম্পনের খবর শোনালেই স্বভাবগতভাবে আতঙ্ক বাড়ে। এমন পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশে নয়। ২০২৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানেও একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল। কারণ সেই সময়ই তুরস্ক–সিরিয়া সীমান্তে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে, যেখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বড় বিপর্যয়ের পর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি নিয়ে থাকে, আর সেই সুযোগেই অনিশ্চিত তথ্য ছড়ায়।
ভূমিকম্প কি আগাম পূর্বাভাস দেওয়া যায়?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আবার সবচেয়ে আলোচিতও। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে কোনো দেশই ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট স্থান বা ঠিক মাত্রা আগে থেকে জানার কোনো বিশ্বস্ত পদ্ধতি তৈরি করতে পারেনি। পৃথিবীর ভূগর্ভে প্লেটের সঞ্চালন যেভাবে কাজ করে, তা এতটাই জটিল যে নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন প্রকৌশলের অধ্যাপক মাইকেল ব্রুনোর ভাষায়, “ভূমিকম্প আঘাত হানার নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে দিতে পারে এমন কোনো বিজ্ঞান এখনো তৈরি হয়নি। সব পদ্ধতি ব্যবহার করেও বিজ্ঞানীরা নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দিতে পারেননি।”
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (Caltech) ভূপদার্থবিদ প্রফেসর এগিল হোকসনের মতে, পৃথিবীর প্লেটের গতিবিধি গণনা করা গেলেও কোনটি ঠিক কোন দিন বা কোন মিনিটে সরে গিয়ে চাপমুক্ত হবে, এমনটা বলা সম্ভব নয়।
তাহলে আমরা কী করব?
যেহেতু আগাম পূর্বাভাস নেই, তাই প্রস্তুত থাকাটাই মূল বিষয়। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি মৌলিক বিষয় মনে রাখার পরামর্শ দেন:
১. বাসার ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস ঠিক করা
২. পরিবারের সঙ্গে জরুরি পরিকল্পনা
৩. সামান্য কম্পনে আতঙ্কিত না হওয়া
৪. গুজব ছড়ানো বা শেয়ার করা এড়িয়ে চলা
ঢাকায় আজ যে কম্পন অনুভূত হয়েছে, তা খুবই ছোট মাত্রার। এই ধরনের ভূমিকম্পের পর ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তবে বিষয়টি আবার মনে করিয়ে দিল, ভূমিকম্পের কোনো নির্ভুল পূর্বাভাস নেই। বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণা করছেন ঠিকই, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ নির্দিষ্ট সময় জানাতে সক্ষম হননি। তাই গুজব নয়—সতর্কতা আর প্রস্তুতিই আমাদের সঠিক পথ।



