
পবিত্র হজ আজ। মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে এসেছেন লাখ লাখ মুসুল্লি। সারাদিন আরাফাতের ময়দানে থাকবেন এবং এখানেই অবস্থান করবেন তারা। এখানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী করীম হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আরাফাতে জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে পড়বেন সবাই। এরপর রওনা হবেন মুযদালিফার উদ্দেশ্যে। যেখানে রাত কাটাবেন খোলা আকাশের নিচে।
প্রেমময় হজের দিন আজ। লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার ময়দান। নবীজির ভাষায় আরাফার ময়দানে অবস্থানের নামই হজ। তাই আরাফার ময়দানে অবস্থান না করলে হজই আদায় হয় না। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখ লাখ মুসল্লির প্রত্যেকজনই আজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন। লাব্বাইক বলে আল্লাহর কাছে হাজিরা দিচ্ছেন।
আরাফার দিন এমন এক ঐতিহাসিক দিন, যেদিন হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহাস সালাম আরাফাতের ময়দানে পুনর্মিলিত হয়েছিলেন। আর এ ময়দানেই নবীজি হিজরতের দশম বছরে উপস্থিত লাখো সাহাবির সামনে দিয়েছিলেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ, যেখানে তুলে ধরেন মানবাধিকার, নারীর অধিকার, জীবন-মর্যাদা ও ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ঘোষণা।
আজকের এ পবিত্র দিনে তওবা, কান্না-কাটি আর দোয়ার মধ্য দিয়ে কাটাচ্ছেন হাজিরা। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, কেউবা দু’হাত উঁচু করে প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করছেন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিন আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে সবচেয়ে বেশি বান্দাদের মুক্তি দেন। নবীজিও আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা চোখে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। উম্মতের জন্য মুক্তি কামনা করেছিলেন।
এ বছর পবিত্র হজ ঘিরে সৌদি সরকার নিয়েছেন অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কৃত্তিম বৃষ্টির পানি ছিটানো, পান করার জন্য মসজিদে নামিরার পাশে অসংখ্য কলের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদারসহ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভির ব্যবস্থাপনা। বিশ্বের মানুষের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে ৩৫ টি ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদের ব্যবস্থাও করেছে সৌদি সরকার।
আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা দোয়া ইস্তিগফারে অবস্থান করবেন ঐতিহাসিক আরাফার ময়দানে। এখানেই জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এরপর রওনা হবেন মুযদালিফার উদ্দেশ্যে, যেখানে রাত কাটাবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে একসঙ্গে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। ভোর হলে নিবেন জামারাতে যাওয়ার প্রস্তুতি। সেখানে গিয়ে তারা শয়তানকে পাথর মারবেন।
আজই ইসলামি বর্ষগণনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি। ৯ জিলহজ, প্রেমময় ইবাদত হজের দিন। এদিন হাজিরা আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করেন। হৃদয়ের সব আকুতি মিনতি জানিয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন। এদিন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেয়া হয়। খুতবার পরই বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। এরপরই হাজিরা রওনা হোন মুজদালিফার দিকে।



