
বসন্ত মানেই কানাডায় নানান রঙের উৎসব। বসন্ত শুরু থেকেই সেই রঙের দেখা মেলে টিউলিপের রাজ্যে। রাজধানী অটোয়ায় এই সময় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। টিউলিপের সৌন্দর্য আর সুবাসে সবাই হয় বিমোহিত।
বসন্তে টিউলিপ উৎসব উদযাপনের ইতিহাসটাও বেশ সমৃদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে নেদারল্যান্ডসে প্রবেশ করে কানাডিয়ান বাহিনী। কানাডার ৭ হাজার ৬০০ সেনা সেই লড়াইয়ে প্রাণ হারান।
একই সময়ে, ডাচ রাজপরিবারকে আশ্রয় দেয় কানাডা। অটোয়ায় থাকার সময় জন্ম হয় ডাচ রাজকুমারীর। রাজপরিবারের সম্মানে একটি হাসপাতালকে সেই সময় সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাতে রাজকুমারীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়।
এই কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে ১৯৪৫ সাল থেকে প্রতিবছর ডাচ সরকার কানাডায় পাঠায় হাজার হাজার টিউলিপ বাল্ব। সময়ের পরিক্রমায় সেই উপহার রূপ নিয়েছে কানাডার জাতীয় ঐতিহ্য ‘কানাডিয়ান টিউলিপ ফেস্টিভ্যাল’-এ।
স্থানীয় দর্শনার্থী বলেন, ‘এখানকার টিউলিপগুলো সত্যিই সুন্দর, মাঠ ফুলে ভরা, মাঠগুলো এখনো সত্যিই ভরা।’
এক নারী দর্শনার্থী বলেন, ‘টিউলিপের মৌসুম খুবই ছোট, তাই আমরা খুব ভাগ্যবান যে এটি দেখতে পাচ্ছি। রঙগুলো খুব সুন্দর, দেখতেও সুন্দর।’
এই উৎসব শুধু ইতিহাস নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শেখায় শান্তি, বন্ধুত্ব আর আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির চেতনাকে।
টিউলিপের এই দৃষ্টিনন্দন উৎসব শুধু বসন্তকে নয়-মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। টিউলিপ বন্ধুত্বের প্রতীক, যা জন্ম নিয়েছিল যুদ্ধের ভয়াল সময় থেকে। তাই টিউলিপ যেন শুধু একটি ফুল নয়-যুদ্ধের বিভীষিকার বিপরীতে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার জয়গান।



