
সেন্টমাার্টন দ্বীপ, ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ফিরতে পারে পুরনো সেই নীল-সবুজ রূপ। দ্বীপটির অনন্য সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য—দ্বীপের প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করে টেকসই পর্যটনের স্বর্গে রূপ দেওয়া।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্ট মার্টিনে পর্যটন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস রক্ষা পাবে, আর পর্যটকেরাও উপভোগ করতে পারবেন এক পরিচ্ছন্ন ও মনোরম দ্বীপ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক বছরে মন্ত্রণালয় সারা দেশে পরিবেশ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। শপিংমল ও কাঁচাবাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, অবৈধ ইটভাটা ও সীসা কারখানা উচ্ছেদ, এবং পাটের ব্যাগ সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এছাড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় ১০ হাজার একরের বেশি বনভূমি পুনরুদ্ধার, হাতির চলাচলের পথ রক্ষা, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ময়ূর ফিরিয়ে আনা এবং জলাভূমিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করার মতো কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে না, বরং এটি হবে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উজ্জ্বল উদাহরণ।
পর্যটক টিপস: প্রকৃতি রক্ষায় ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, প্রবাল স্পর্শ করবেন না, আর দ্বীপের সৌন্দর্যকে নিজের মতো করে উপভোগ করুন—তাহলেই সেন্ট মার্টিন থাকবে আগামীর প্রজন্মের জন্য অক্ষত।



