
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র জেটির পুনর্নির্মাণ কাজ। নতুন জেটি নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াতে নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, যার আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপবাসী ও পর্যটকদের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো নৌপথ এবং পূর্ব সৈকতে অবস্থিত একমাত্র জেটি। কিন্তু ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জেটিটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১১ বছর কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দাবি ছিল নতুন জেটি নির্মাণের।
অবশেষে স্থানীয় সরকার ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নতুন জেটি নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। থাকছে ৭০টি পিলার, রেলিংসহ স্টিলের অবকাঠামো এবং দুটি পৃথক সিঁড়ি। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে জেটিটি। দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস. এস. রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আলী হায়দার বলেন, “গত মে মাসে কাজ শুরু হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করা। ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে, অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই, জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা প্রতিদিন কাজ তদারকি করছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এ প্রকল্পে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “নতুন জেটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। এটি শেষ হলে সবার জন্যই উপকার হবে।” জমির উদ্দিন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “পুরনো জেটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কাজের গুণগত মান যেন ভালো হয়, সেটাই আমাদের দাবি।”
দ্বীপের আরেকজন বাসিন্দা গুরা মিয়া জানান, “সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুমে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি স্থায়ী জেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রতিনিধি আবদুল মাজেদ জানান, “বর্তমানে জেটির পাইলিংয়ের কাজ চলছে। কিছুটা আবহাওয়াজনিত সমস্যার মুখে পড়লেও আমরা গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।”
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে প্রথম ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের জেটি নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়লে পুনর্নির্মাণের দাবি জোরালো হয়।
নতুন জেটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে দ্বীপবাসী এবং পর্যটকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হবে, যা সেন্টমার্টিনের পর্যটন উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-পর্যটন সংবাদ প্রতিবেদক



